ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রপ্তানিতে প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার


রপ্তানিতে প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট আট মাসে বাংলাদেশের একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হ্রাসের হার কম।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪৯০৮ কোটি (৪৯ দশমিক ০৮ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৯ কোটি (৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন) ডলারে।

 

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার এই হার চীন ও ভারতের তুলনায় বেশ কম। আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীন ও ভারতের পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

 

এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে।

 

তৈরি পোশাকের সামগ্রিক বাজারে মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তুলনামূলক কম পতনকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে স্কয়ার মিটার সমতুল্য (এসএমই) হিসাবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং গড়ে প্রতি একক পোশাকের দাম (ইউনিট প্রাইজ) কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এই সময়ে চীন ও ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ কমেছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমার হার ছিল ০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ০ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ যথাক্রমে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

দামের দিক থেকে বাংলাদেশি পোশাকের গড় একক মূল্য যেখানে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে, সেখানে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এ হার কমেছে ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, চীনের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ভারতের ২ দশমিক ০৪ শতাংশ। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাকের গড় দামও একই সময়ে কমেছে।

যদিও এশিয়ার প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর পোশাকের দাম কমেছে, তবুও মার্কিন বাজারে আমদানিকৃত সামগ্রিক পোশাকের গড় একক মূল্য ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, মার্কিন বাজারে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য অনুকূল শুল্ক কাঠামো দেশের তৈরি পোশাক খাতের এই ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে শুল্কের যে বড় তফাত রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পণ্য কেনার (সোর্সিং) সিদ্ধান্ত নেওয়াকে প্রভাবিত করছে। আমাদের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো ভালো অবস্থানে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি ক্রেতারা এই সুবিধার সুযোগ নিতে চাইবেন।

রুবেল আরও বলেন, উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি এবং কৃত্রিম তন্তুর (ম্যান-মেড ফাইবার) দিয়ে প্রস্তুতকৃত পোশাকের উৎপাদন বাড়াতে পারলে, বাংলাদেশ এই বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করতে পারবে।

এদিকে, ৮ মাসের সামগ্রিক হিসাব মন্থর হলেও গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আশাব্যঞ্জক উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস কর্তৃক সংকলিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এই রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৮১ দশমিক ৭ কোটি (৮১৭ মিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে।

একই তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি (১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন) ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।


   আরও সংবাদ