ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ল্যান্ডলর্ড মডেলে পরিচালিত হবে এনসিটি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭২ বার


ল্যান্ডলর্ড মডেলে পরিচালিত হবে এনসিটি

চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছর পরিচালনা করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কনসেশন চুক্তি হবে রাজধানী ঢাকার ইনভেস্টমেন্ট মিলনায়তনে।

 

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। 

বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া।

 

 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর পরিচালনার আন্তর্জাতিক একটি পদ্ধতি হলো ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল'। এই পদ্ধতিতেই এনসিটি পরিচালিত হবে, যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হবে ‘ল্যান্ডলর্ড'।

অর্থাৎ টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে। পাশাপাশি বিদেশি অপারেটরের কার্যক্রম তদারকি করা হবে।

চুক্তির মেয়াদকালে প্রায় ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে টার্মিনাল অপারেটর। এর মধ্যে থাকবে অগ্রীম পেমেন্ট, টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদকরণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিবাবদ ব্যয়। এই বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) হিসেবে আসবে।

 

 

এনসিটি পরিচালনা এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সব দায়িত্ব চুক্তিপ্রাপ্ত অপারেটর ডিপি ওয়ার্ডের। এক্ষেত্রে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়মুক্ত থাকবে। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে টার্মিনাল অপারেটররা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলেও, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষকেই। কনসেশনের পুরো মেয়াদে সব ধরনের আর্থিক দায় ডিপি ওয়ার্ল্ড বহন করবে। বাংলাদেশ সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না। কনসেশনের মেয়াদ হবে ১৫ বছর। এ সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড (কনসেশনগ্রহীতা) এনসিটি টার্মিনালের সংস্কার, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ও জি-টু-জি মডেলে সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও রীতি অনুসরণ করেছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই প্রকল্পে লেনদেনবিষয়ক পরামর্শক (ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার) হিসেবে কাজ করছে। চূড়ান্ত আলোচনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, স্বার্থ ও কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই উপেক্ষা করা হয়নি। দরপত্র আহ্বান ও আলোচনা প্রক্রিয়ায় দেশের সব প্রযোজ্য নিয়ম-কানুন এবং সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক চর্চা (বেস্ট ইন্টারন্যাশন্যাল প্রাকটিস) অনুসরণ করা হয়েছে।

চুক্তিটি দেশের আইনগত ও আর্থিকসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রযোজ্য সব শর্ত পূরণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রযোজ্য সব আইন ও বিধিবিধান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিদেশি অপারেটরের অধীনে এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ও টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়বে। এতে বন্দরের রাজস্ব ও কর আদায় বাড়বে। কনসেশন চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি টিইইউ’স কনটেইনার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্বের একটি অংশ পাবে। এর পরিমাণ নির্ধারণ হবে টার্মিনালের গড় আয়ের ওপর ভিত্তি করে। টার্মিনালের গড় আয় বাড়লে বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্বের হিস্যাও বাড়বে। প্রতি টিইইউ’স থেকে ৪০-৬৭ শতাংশ রয়‍্যালটি/রাজস্বের অংশ বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে।

 

 

চুক্তির পর কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হবে না উল্লেখ করে নৌসচিব বলেন, বরং কনসেশন চুক্তিতে বিদ্যমান কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে এনসিটিতে কর্মরতদের আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে পিপিপি কাঠামোর নতুন ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের বেতন-ভাতা তো কমবেই না, বরং কোনো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উপযুক্ত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন আরও বাড়তে পারে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক মানদণ্ড ও প্রটোকল বাস্তবায়ন করবে। ফলে দুর্ঘটনার হার কমবে এবং কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা বাড়বে। ডিপি ওয়ার্ল্ড অন্যতম শীর্ঘ বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর। ৬০টির বেশি বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনসিটি টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক চর্চা (বেস্ট ইন্টারন্যাশন্যাল প্রাকটিস) প্রয়োগ করা হবে।

 

 

ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বৈশ্বিক অপারেটর যুক্ত হলে পণ্য খালাস হবে দ্রুত। কমবে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড সময়। পাশাপাশি উন্নত পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দরে কনটেইনার অবস্থানের সময়ও কমবে। ফলে লজিস্টিকসের পেছনে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের ব্যয় সাশ্রয় হবে।

উন্নত টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম, ক্রেনের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও দক্ষ পরিচালন পদ্ধতির মাধ্যমে জাহাজের বন্দরে অবস্থানকাল কমবে। ফলে শিপিং লাইনগুলোর সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হবে। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমে গেলে পরিচালনার ব্যয়ও কমবে। এতে করে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশলের মতো খাত 'জাস্ট-ইন-টাইম' সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবে। ফলে ক্রেতা ধরে রাখা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি আরও সহজ হবে।

বিভিন্ন সূচকের মধ্যে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ধীরে ধীরে ৯০ মিনিটে নামিয়ে আনা হবে। ক্রেনের উৎপাদনশীলতা দ্বিতীয় বছর থেকে উন্নত হবে। অটোমেশনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমাতে কাগজবিহীন কার্যক্রম চালু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জাহাজের অপেক্ষার সময় বিদ্যমান 'শূন্য অপেক্ষার সময়' বজায় রাখতে সহায়তা করবে। 

কনসেশনের পুরো মেয়াদে বন্দর সম্পদের মালিকানা কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। কনসেশনগ্রহীতাকে টার্মিনালের সব সম্পদ ও অবকাঠামোগত স্থাপনা কার্যকর অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। কনসেশনের মেয়াদ শেষে টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণকৃত একটি টার্মিনাল পাবে এবং এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও অর্জন করবে।

ডিপি ওয়ার্ডের কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে। ফলে স্থানীয় বন্দরকর্মীরা আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন। কনসেশনের মেয়াদ শেষে আধুনিক বিশ্বমানের টার্মিনাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পরিচালন-সংক্রান্ত জ্ঞান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বৈশ্বিক মানে উন্নীত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

নির্ভরযোগ্য টার্মিনাল সক্ষমতা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য পরিবহন করিডোরের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি), কোল্ড চেইন ও শিল্পপার্কে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে বন্দরনগরীর বাইরেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটবে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বৈশ্বিক অপারেটরের সঙ্গে একটি সফল দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক চর্চার (বেস্ট ইন্টারন্যাশন্যাল প্রাকটিস) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিপিপি কাঠামো তৈরি, দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনা ও তদারকিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে উল্লেখ করে নৌসচিব বলেন, এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যমান ধারণা দূর করতে, বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে এবং জ্বালানি, পরিবহন, সামাজিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে আরও পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি বাংলাদেশের সামগ্রিক অবকাঠামো অর্থায়নের ঘাটতি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইনান্সিং গ্যাপ) পূরণে সহায়তা হবে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক লজিস্টিকস ব্যবস্থায় সংযোগের নতুন দুয়ার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড), বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন ফ্রেইট করিডোরও সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ পণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহের গতি বাড়বে। ফলে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। বৈশ্বিক লজিস্টিকস সংযোগের ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি সুবিধা তৈরি হবে। টার্মিনালের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়লে দেশে বিদ্যমান আইসিডিগুলোতে আরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে এসব ডিপোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

 

কনসেশনের পুরো মেয়াদে 'কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই)' ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর আওতায় চুক্তির মেয়াদে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি (ইফিসিয়েন্সি গেইন) ও সক্ষমতা উন্নয়নের (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি প্রশমন হবে। সরকার বা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা ধরে রাখবে। অপারেটর শুধু নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরিচালনার অধিকার পাবে। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, অভিবাসন, কাস্টমস ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রটোকল বহাল থাকবে। আইএসপিএস কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা অব্যাহত থাকবে। প্রকল্পটি ঋণনির্ভর হবে না। বেসরকারি অপারেটর নিজস্ব মূলধন ব্যয় করবে এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের দায়ভার বহন করবে। কেপিআই, রিপোর্টিং, সিসিটিভি, নিরীক্ষা ও জরিমানার বিধান চুক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। নীতিগতভাবে বিভিন্ন টার্মিনালে একাধিক আন্তর্জাতিক অপারেটরকে যুক্ত করা হবে, যেন দর-কষাকষির ক্ষমতা ও কার্যক্রমের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে। স্থানীয় কর্মসংস্থান অব্যাহত থাকবে। সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছর মেয়াদে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১ অক্টোবর  সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এ জন্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই দিন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড’ শীর্ষক পিপিপি প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক নজরে এনসিটি

বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৭ সালে এনসিটি নির্মাণকাজ শেষ হয়। জেটি, টার্মিনাল, ওভারফ্লো ইয়ার্ড, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এনসিটি দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো হয়েছে। এটি বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। দীর্ঘদিন সাইফ পাওয়ারটেক এ টার্মিনাল পরিচালনা করলেও ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মধ্যরাত থেকে এনসিটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)।  বন্দরের অন্য তিনটি টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবি ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল বা সিসিটি দেশীয় অপারেটররা পরিচালনা করছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বা আরএসজিটি। সম্প্রতি পতেঙ্গার লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল তৈরি ও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে ডেনমার্কের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। 

 ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের

বন্দরের লাভজনক ও প্রধান টার্মিনাল এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি, বন্দর রক্ষা পরিষদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ইত্যাদি। তারা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল, অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। 


   আরও সংবাদ