স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৭ অ্যাসিস্ট, ছয়টি বিশ্বকাপ ও সাতটি কোপা আমেরিকায় অংশগ্রহণের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা।
রেখে গেছেন অসংখ্য রেকর্ড ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখার মতো স্মৃতি।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় ১৮ বছর বয়সী মেসির।
১৮ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমে বদলি হিসেবে নামার দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। ম্যাচটি অবশ্য ২-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে মেসি জিতেছেন ১৩৫টি, ড্র করেছেন ৪৩টি এবং হেরেছেন ৩০টি ম্যাচে। তার সবচেয়ে বড় জয় এসেছে তিনটি ৭-০ ব্যবধানে।
হংকং, বলিভিয়া ও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এসব জয়ে প্রতিটিতেই অন্তত দুটি করে গোল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় হার ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার কাছে ৬-১।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে মেসির ওপরে আছেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের তারকা খেলেছেন ২৩৪ ম্যাচ। মেসির পর ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলা পুরুষ ফুটবলার হলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ ও কুয়েতের বদর আল-মুতাওয়া। আর্জেন্টিনার হয়ে অবশ্য মেসিই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাভিয়ের মাচেরানোর চেয়ে তার ম্যাচ ৬১টি বেশি।
বিশ্বকাপেও মেসির রেকর্ড অসাধারণ। ছয়টি আসরে তিনি খেলেছেন ৩৪ ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালে তিনটি, ২০১০ সালে পাঁচটি, ২০১৪ সালে সাতটি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০২২ সালে সাতটি এবং ২০২৬ সালে আটটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
কোপা আমেরিকাতেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির। সাতটি আসরে খেলেছেন ৩৯ ম্যাচ। ২০২৪ সালের আসরে সাবেক চিলিয়ান গোলরক্ষক সের্হিও লিভিংস্টোনের ৩৪ ম্যাচের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি।
ছয় বিশ্বকাপ ও সাত কোপা আমেরিকা মিলিয়ে ১৩টি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে আটবার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা এবং জিতেছে তিনটি। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। অবশ্য খুব দ্রুতই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোল ১২৬টি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু রোনালদো, ১৪৬টি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পর সর্বোচ্চ গোলদাতা গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, যার গোল ৫৬টি। মেসির ১২৬ গোলের মধ্যে ১১২টি এসেছে বাঁ পায়ে, ১২টি ডান পায়ে এবং দুটি হেডে।
বিশ্বকাপে মেসি করেছেন ২১ গোল। তবে এই রেকর্ডেও তিনি শীর্ষে নন। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল তার চেয়ে একটি বেশি। মেসির ২১ বিশ্বকাপ গোলের ১৫টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়সের পর। কোপা আমেরিকায় তার গোল ১৪টি। সব মিলিয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মেসির গোল ৩৫টি, যা দিয়েগো ম্যারাডোনার পুরো আর্জেন্টিনা ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যার চেয়েও একটি বেশি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন ২০২২ সালে, ১৮টি। একই বছরে কাতার বিশ্বকাপ জয়ে সাতটি গোল করেছিলেন তিনি। দেশের হয়ে তার সর্বোচ্চ গোল এক ম্যাচে পাঁচটি, ২০২২ সালে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে।
ফ্রি-কিক থেকেও মেসির রয়েছে ১২টি গোল। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। পরে আরও দুটি ম্যাচে গোল করে সেই রেকর্ড নিয়ে যান টানা নয় ম্যাচে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক গোলও এসেছে তার বিদায়ী ম্যাচে। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ নিকো পাজকে দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে মোট ৬৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার প্রথম অ্যাসিস্ট ছিল ২০০৫ সালে কাতারের বিপক্ষে হুয়ান রোমান রিকেলমেকে দিয়ে, আর শেষটি এসেছে বেনিনের বিপক্ষে নিকো পাজের গোলে।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন মোট ১৮৮ জন সতীর্থ। সবচেয়ে বেশি ম্যাচে তার সতীর্থ ছিলেন আনহেল দি মারিয়া। বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, ২১টি।
মেসির এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দিয়েছেন আনন্দ, হতাশা, উত্তেজনা ও অসংখ্য স্মৃতি। আর্জেন্টিনার মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও তার রেখে যাওয়া রেকর্ডগুলোর অনেকগুলোই দীর্ঘদিন অম্লান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।