ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে নাশকতা ঘটতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৩২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


 রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে নাশকতা ঘটতে পারে

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের নাশকতা সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এজন্য তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে দেখলেই আটক, বিদেশিদের ক্যাম্পে গমন সীমিতকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)/বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)/আনসার/কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহীনুল ইসলাম।

যে সকল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—

চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা, এপিবিএনের চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার, নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটো ও মোটরবাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

 

সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত: নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে ক্যাম্পে সক্রিয় সব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ও রোহিঙ্গা সংগঠনের সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত না হয়, সে বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

সীমান্ত ও বহিরাগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ: বিজিবির টহল জোরদার এবং মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর বিশেষ নজরদারি, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশি-বিদেশি এনজিও কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত বা নিরুৎসাহিত করা হবে।

স্থানীয় শ্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনী প্রচারণার সময় রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়ার মতো ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজার নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন ও পরদিন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।

 

মোবাইল কোর্ট ও যৌথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা: ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রেখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মরিচ্যা, রেজুখাল ও হোয়াইক্যং চেকপোস্টসহ ক্যাম্পের আশপাশে এপিবিএন ও বিজিবির যৌথ নজরদারি জোরদার করতে হবে।

এছাড়া রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দিতে হবে। একই সঙ্গে এমপি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা, টাকার বিনিময়ে জাল ভোট বা বিরোধী প্রার্থী দমনে রোহিঙ্গা ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এপিবিএন ও সিআইসির সমন্বয়ে ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

 

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বিশেষ নজরদারি: নির্বাচনের আগে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনকেন্দ্রগামী পথে চেকপোস্ট স্থাপন এবং রোহিঙ্গাদের ভোট প্রদান ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পে সিআইসি ও এপিবিএন সদস্যদের নির্বাচনকালীন সময়ে ক্যাম্পের বাইরে দায়িত্ব না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

ক্যাম্প অবকাঠামো ও বিদেশি চলাচল: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর ও সিসি ক্যামেরা মেরামত, বিদেশি নাগরিক ও INGO/UN সংস্থার কর্মকর্তাদের ক্যাম্পে অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্গম এলাকা পরিদর্শনে নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম মূল্যে শ্রম বিক্রি করে।

ইতোমধ্যে অনেকেই ভোটার হয়ে তালিকাতেও ঢুকে গেছেন। পেয়েছেন জাতীয় পরিচয় পত্রও (এনআইডি)।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


   আরও সংবাদ