ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

উজাড় ভাসানচরের উপকূলীয় বন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৫:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


উজাড় ভাসানচরের উপকূলীয় বন

নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জ্বালানি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করছে। এতে একদিকে উপকূলীয় বন উজাড় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহের জন্য নতুন দাতা খুঁজছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন।

কমিশন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অধীন এনজিও ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৩৭ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে। ভাসানচরে বসবাসরত এসব রোহিঙ্গার জন্য প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘ইসলামি রিলিফ’ নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে তাদের জন্য তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হতো। এনজিওটির চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করার কথা ছিল।

কিন্তু দুই মাস আগে, গত জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য ইসলামি রিলিফের গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল, পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের আগেই তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের একটি অংশ উপকূলীয় বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে জ্বালানির লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করত। ইসলামি রিলিফের গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই এখন উপকূলীয় বন থেকে কাঠের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

তারা বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ করছে, ফলে বন উজাড় হচ্ছে। উপকূলীয় বন উজাড় হওয়ার ফলে ভাসানচরে বসবাস ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন।

 

বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে জ্বালানির চাহিদা মেটানোর কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত পাশের অনেক বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ অবস্থায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে সহায়তা চেয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন।

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি জানতে ইসলামি রিলিফের বাংলাদেশ অফিসে যোগাযোগ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামি রিলিফের পলিসি, অ্যাডভোকেসি, সিস্টেমস ইনোভেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের ম্যানেজার এ ডব্লিউ এম আনিসুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ইসলামি রিলিফ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কর্মসূচি চালু রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন তহবিলের অর্থ কর্তন করা হয়, যার মধ্যে ইসলামি রিলিফের তহবিলও ছিল। এখন নতুন করে কর্মসূচি চালু করতে ভিন্ন দাতাদের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্চ মাস থেকে ভাসানচরের জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা আবার চালু করা সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হলে প্রতি মাসে যে তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হতো, সেটিই পুনরায় চালু করা হবে।


   আরও সংবাদ