ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যা এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
আলোচিত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এর আগে একক কোনো মাসে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।
এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল এ বছরের জানুয়ারি মাসে। ওই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১৭ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যাণ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যন্স এসেছিল ৩০১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।
তাছাড়া গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় যুদ্ধ, যা দ্রুতই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরও বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই প্রবাসী কর্মীরা খুব একটা ভালো নেই বলেই জানা গেছে।
তারপরও তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স ভর করে দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বুধবার দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।
বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই হাজার ৬২০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এর আগের অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।
সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, ঈদুল ফিতরের সময় রেমিট্যান্স অবশ্যই বাড়ে। তবে এবার যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অনেক প্রবাসী কর্মী হয়তো তাদের জমানো টাকা দেশে তাদের স্বজনদের কাছে একবারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, এ কারণেও রেমিট্যান্স বাড়তে পারে।
‘তাছাড়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হুন্ডি-হাওলার প্রতি মানুষের আস্থাটা কিছুটা কমতে পারে। এটা এই মুহুর্তে তাদের কাছে অনেক বড় ঝুঁকি মনে হতে পারে। একারণে নিরাপদে টাকা পাঠানোর জন্য তারা ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নেবেন এটাই স্বাভাবিক,’ যোগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।