ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার


ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন

ইরান বিষয়ক একজন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ, তার হাতে আর কোনো ‘ভালো বিকল্প’ ছিল না।

 

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক পর্যায়ের যুদ্ধ ‘ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ধ্বংস করে দিত।’

পার্সি বলেন, ‘তিনি উত্তেজনাকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে অনেক বড় বড় কথা বলছিলেন।

কিন্তু অঞ্চলের সবাই জানত যে, আপনি যদি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর হামলা করেন, তবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। এর ফলে বর্তমানে আমরা যে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার চেয়েও অনেক ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি হতো।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ট্রাম্পের এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজন ছিল। তিনি আজ (মঙ্গলবার) দিনের শুরুর দিকে অনেক হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে এমন একটি আবহ তৈরি করা যায়– সন্ধ্যায় তিনি যে চুক্তিতে পৌঁছাবেন তা যেন তার শর্তেই হয়েছে বলে মনে হয়।

 

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘কিন্তু আপনি যদি আসলে গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখা যাবে বিষয়টি তেমন নয়। এমনকি তার নিজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা হবে ইরানিদের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি পরিকল্পনা।’

প্রসঙ্গত, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।

বুধবারের এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকি প্রত্যাহার করেছেন এবং দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে হামলা ‘স্থগিত’ রাখতে সম্মত হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর থাকবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে’ রাজি হয়।

এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালীতে আংশিক অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত হয়, তেলের দাম বেড়ে যায়, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।

ইরানের পাল্টা হামলাগুলো পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিরাও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উভয় গোষ্ঠীই ইসরায়েলে হামলা শুরু করে, যা সংঘাতকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে।

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে এটি ‘আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি’।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘প্রায় সবকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে’ একমত হয়েছে এবং এই দুই সপ্তাহ চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত ও সম্পন্ন’ করার সুযোগ দেবে।

জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পক্ষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’

আরাগচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, যুদ্ধরত সব পক্ষ ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে।

এক্সে তিনি লিখেছেন, এ পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানান এবং শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে তাদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানান, যাতে সব বিরোধ মেটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা যায়।

ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতে, তাদের ১০ দফা প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আধিপত্য ও তদারকির কথা বলা হয়েছে, যা দেশটিকে একটি ‘অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান’ দেবে।

প্রস্তাবটিতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে সব মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও এতে রয়েছে।

প্রস্তাবটিতে বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরানি কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলেও তারা ‘আমেরিকান পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই তা করছে।

তারা জানিয়েছে, ইরান এ আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবে এবং ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে’।

কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুর সামান্যতম ভুল’ হওয়ামাত্র ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত।

সূত্র: আল জাজিরা


   আরও সংবাদ