আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তেহরানকে আরও প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখবে।
ট্রাম্পের মতে, মঙ্গলবারের এই পদক্ষেপটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে বলেছেন, আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখতে এবং অন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে নির্দেশ দিয়েছি, এবং তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত ও আলোচনা যেভাবেই হোক শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে দেবো।
কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় ট্রাম্পের বিবৃতি থেকে বোঝা যায় যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে।
ট্রাম্পের বিবৃতির বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান ‘পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে’।
এ মেয়াদ বৃদ্ধি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সর্বশেষ আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করছেন এবং ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানোর আগের সময় ফুরিয়ে আসছে।
এ অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরানের কর্মকর্তারা দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের নিন্দা জানিয়েছেন, যা বুধবারের নির্ধারিত আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এরপর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে সম্মত হওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, ইসলামাবাদ এ সংঘাতের একটি সমঝোতামূলক সমাধানের জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে।
এক্স-এ একটি পোস্টে শরিফ বলেছেন, আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় একটি ব্যাপক ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ইরানকে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে আনতে যথেষ্ট হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরানি বন্দর অবরোধকে একটি ‘যুদ্ধকালীন কাজ’ এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
আরাঘচি লিখেছেন, নিষেধাজ্ঞা নিষ্ক্রিয় করতে, নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং ধমকবাজি প্রতিহত করতে ইরান জানে।
সূত্র: আল-জাজিরা