ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রাসায়নিক লিকের শঙ্কায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২৬ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


রাসায়নিক লিকের শঙ্কায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি সম্ভাব্য রাসায়নিক লিক বা বিস্ফোরণের আশঙ্কায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, গার্ডেন গ্রোভ শহরে অবস্থিত জিকেএন অ্যারোস্পেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানায়।

সেখানে থাকা একটি সংরক্ষণ ট্যাংকে মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের একটি রাসায়নিক গ্যাস নির্গত করতে শুরু করে এবং ট্যাংকটি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অত্যন্ত দাহ্য এই রাসায়নিকটি রেজিন ও প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 

প্রাথমিকভাবে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক (হ্যাজম্যাট) দল পাঠানো হয় এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে একই দিনে সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়।

তবে গার্ডেন গ্রোভ কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তীতে ট্যাংকের একটি ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং পুরো ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

 

এরপর শুক্রবার নতুন করে দেওয়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ছয়টি শহরের বাসিন্দাদের পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়।

 

অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ডিভিশন প্রধান ক্রেইগ কোভি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের একটি ট্যাংক এখন সক্রিয়ভাবে সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন মাত্র দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি আছে। এক, ট্যাংকটি বিকল হয়ে গিয়ে প্রায় ৬–৭ হাজার গ্যালন অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। দুই, ট্যাংকটি থার্মাল রানঅ্যাওয়ের কারণে বিস্ফোরিত হবে, যা আশপাশের অন্যান্য জ্বালানি ও রাসায়নিক ট্যাংককেও প্রভাবিত করতে পারে।

গার্ডেন গ্রোভ পুলিশের প্রধান আমির এল-ফাররা বলেন, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়া মানুষের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ এখনো এলাকা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। ইতোমধ্যে শহর কর্তৃপক্ষ অন্তত দুটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।

ফায়ার বিভাগের প্রধান কোভি বাসিন্দাদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এই সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য—ট্যাংকটি নষ্ট হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। দয়া করে আমাদের নির্দেশনা মেনে এলাকা ত্যাগ করুন।

তিনি আরও জানান, ট্যাংকটি ফেটে গিয়ে বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে শুধু ফাটল ধরতে পারে, এ সম্ভাবনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে বালুর বাধ তৈরি করা হয়েছে।

ফায়ার বিভাগের প্রধান বলেন, এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেটিই আসলে সবচেয়ে ভালো ফল হতে পারে—বিশ্বাস করুন।

জিকেএন অ্যারোস্পেস একটি ব্রিটিশ কোম্পানির অংশ, যা বিমান ইঞ্জিন ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ তৈরি করে।


   আরও সংবাদ