স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নের মতো এক আসর কাটিয়েছিল নরওয়ে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে উঠে অসাধ্য সাধনের অপেক্ষায় ছিল আর্লিং হালান্ডরা।
তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হলো তাদের। ১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর স্নায়ুযুদ্ধের লড়াইয়ে ২-১ গোলে নরওয়েকে বিদায় করে দিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড।
মায়ামি স্টেডিয়ামে লড়াইটা ছিল সমানে সমান। ম্যাচের শুরু থেকে ইংল্যান্ড বলের দখলে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের।
বেলিংহ্যাম, ও'রাইলি ও কেইন মিলে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও নরওয়ের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। উল্টো ম্যাচের ৩৪ মিনিটে দারুণ এক গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ।
বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার সেই দূরপাল্লার শটটি জর্ডান পিকফোর্ডকে বোকা বানিয়ে জড়িয়ে যায় জালের কোণায়।
গোল হজম করার পর ইংল্যান্ড মরিয়া হয়ে ওঠে এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে সফলও হয়। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত স্কয়ার পাসে বক্সের ভেতর থেকে শক্তিশালী শটে সমতা ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। এর ঠিক পরেই কেইন বল জালে জড়ালে ইংল্যান্ড সমর্থকরা উল্লাসে মেতেছিল, তবে অফসাইডের খাঁড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ৫৫ মিনিটে নরওয়ে গোল পেয়েছিল লিও হেগেমের পা থেকে। কিন্তু ভিএআর চেক করে রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করেন, কারণ গোল হওয়ার মুহূর্তে বক্সের ভেতরে হালান্ড ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারকে। এই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের জন্য প্রাণসঞ্চারি হয়ে ওঠে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ভাগ্য প্রসন্ন হয় ইংল্যান্ডের। ৯৩ মিনিটে মরগান রজার্সের দূরপাল্লার একটি বাঁকানো শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড ঠিকমতো ধরতে পারেননি। হাত ফসকে বল চলে যায় সামনে থাকা বেলিংহ্যামের পায়ে। তিনি আলতো ছোঁয়ায় ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৯৯ মিনিটে ইংল্যান্ড পেনাল্টির আবেদন করলেও ভিএআর দেখে রেফারি তা নাকচ করে দেন।
শেষ পর্যন্ত বেলিংহ্যামের জোড়া গোল আর দৃঢ় রক্ষণভাগে ভর করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে থ্রি লায়নরা। অপরদিকে, বীরের মতো লড়েও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হালান্ডদের।