ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
রাজধানীর সবুজবাগে সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাজিফা শেখ নেহা নামে এক তরুণীর একাধিক প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের পূর্বাপর দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে সিফাত ও নেহার মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। ঘটনার দিন তাদের মার্কেটে যাওয়ার কথা ছিল।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নেহা অনলাইনে কাপড় বিক্রি করতেন। সেখান থেকেই সিফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল।
ঘটনার দিন দুজনের মার্কেটে যাওয়ার কথা ছিল।
ওসি জানান, নেহার এর আগে সাজিদ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাজিদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নেহা। একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নেহাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় একটি রুম ভাড়া করে নেহা আরেক তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। রোববার সিফাত নেহার ওই বাসায় যান। এরই মধ্যে দুই যুবক দরজায় নক করে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে সিফাতের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাত ওই বাসায় থাকা একটি চাকু দিয়ে তাদের আঘাত করেন। আহত দুই যুবক সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় সিফাত বুঝতে পারেন, তার ওপর হামলা হতে পারে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আহত দুই যুবকসহ আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সিফাত দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। আবার কাতারে যাওয়ার কথা ছিল তার।
এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় নেহাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি তার সাবেক প্রেমিক সাজিদসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শুধু নেহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় নেহার বাসার সামনের সড়কে কয়েকজন সিফাতকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে মুগদা হাসপাতাল হয়ে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল, মাদারটেক এলাকায় একটি মেয়ের ব্যাচেলর বাসায় সিফাত প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে সেখানে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সিফাতসহ আরও দুজন আহত হন।
আহত দুজন হলেন রাজির রাব্বি (২৫) ও ইয়াসিন (২২)। পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
হাসপাতালে সিফাতের বন্ধু হাসান জানান, সিফাত মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীর বাসার সামনে গিয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। একপর্যায়ে হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
নিহত সিফাত উল্লাহর বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। অন্যদিকে নেহা বর্তমানে ঢাকার সবুজবাগের উত্তর আদর্শপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বলে জানা গেছে।