ঢাকা, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আওয়ামী লীগ নেতা মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


 আওয়ামী লীগ নেতা  মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

পাবনা  প্রতিনিধিঃ

পাবনার আটঘরিয়ায় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসির) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী।

 

৭ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মঞ্জুরুল আলম (মঞ্জু মাষ্টার) উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী 'শিবপুর ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা'র সহকারী শিক্ষক।

 

এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের সঙ্গে মঞ্জু মাস্টারের অনৈতিক সম্পর্ক ও দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবাদে মাদরাসার প্রধান ফটকে মানববন্ধন, মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

 

এ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত। নির্ধারিত ক্লাস ফাঁকি দেওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারী ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যা ধর্মীয় ও পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বারবার মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মঞ্জু মাষ্টার বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র শিক্ষকতা করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করতেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত অভিযোগ উঠলেও ক্ষমতার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।

 

সম্প্রতি একই মাদরাসার প্রভাষক আফরোজা খাতুনের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের খবর ও তথ্য-প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সংক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি, এই অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে মঞ্জু মাস্টারের স্ত্রী শারমিন আলম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। মঞ্জু ও আফরোজার অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে অভিযুক্তদের শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার এক শিক্ষক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে তারা যে কলঙ্কজনক কাজ করছেন, তাতে আমরা চরম লজ্জিত। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসায় গেলে প্রভাষক আফরোজা খাতুন কোনো কথা না বলে পেছনের দরজা দিয়ে সটকে পড়েন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, এলাকাবাসীকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।

 

অন্যদিকে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল আলিম দায় এড়িয়ে বলেন, এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু বলার বা করার নেই।

 

​বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমন অপকর্মে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাদরাসায় সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

 

এব্যাপারে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পত্রের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।  তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


   আরও সংবাদ