আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও দ্রুত বেড়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।
সৌদি আরবে নতুন করে হুথি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবরের পাশাপাশি সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ৯০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ২৭ ডলার বেড়ে ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার খোলার সময় তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।
গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্টের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
এর ফলে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো দুই প্রধান ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
এর মধ্যে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়। ইরাক ও সৌদি আরব জানিয়েছে, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি আরব উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগরের দিকে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে সৌদি তেল সরবরাহের জন্য পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতেও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদের আঘাত লাগে। এতে আগুন ধরে যায় এবং জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত এবং চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা ওই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বাড়তে থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারের ওপরে উঠে রেকর্ড করেছে।
সূত্র: রয়টার্স