ঢাকা, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ফেনীকে যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৩ বার


ফেনীকে যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দিনব্যাপী ফেনী সফরে এসে জেলার উন্নয়ন, কৃষি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামাজিক সুরক্ষায় একগুচ্ছ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়), রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী প্রদান।

 

১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে।

 

এ ছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করা ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজীসহ আশপাশের এলাকার জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর মুহুরী-কহুয়া নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছিল।

 

জাতীয় গ্রিডে যাবে ফেনীর সৌরবিদ্যুৎ
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি কর্মসূচি ছিল সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে।

ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড
ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিও শুরু হয়। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট পর্যায়ের প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কার্ডের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা কৃষকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড পেলেন ৫১০ পরিবার
ফুলগাজীতে ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচিও ছিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ। নিম্নআয়ের পরিবারের নারীদের সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। জাতীয় পর্যায়েও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়েছে।

সম্মানী পেলেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা
একই অনুষ্ঠানে ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রাখা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তার কার্যক্রমও সামনে আসে।

ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনার
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে উদ্বোধন ও বিতরণ করা কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষক কার্ডের পরিধি বাড়ানো এবং জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও এসেছে।

কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তাঁদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এক দিনের ফেনী সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ ও সামাজিক সুরক্ষায় একাধিক উদ্যোগের উদ্বোধন ও বিতরণ কার্যক্রম হয়েছে। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও সুবিধা স্থানীয় মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


   আরও সংবাদ