ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তারেক রহমানের বিচক্ষণতায় উৎসবমুখর দুর্গোৎসব

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩ বার


তারেক রহমানের বিচক্ষণতায় উৎসবমুখর দুর্গোৎসব

 

সব শঙ্কা, ভয় উপেক্ষা করে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। 

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। 

 

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী পাঁচদিন রাজধানীসহ দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়।

 

এবারের দুর্গাপূজা ছিল অতীতের সব দুর্গাপূজার চেয়ে উৎসবমুখর। গোটা পূজায় ছোটখাটো কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া ছিল আনন্দের ভয় হীন। সরকার এই পূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো পাঁচদিন ছুটি ঘোষণা করে। পূজা উপলক্ষে অনুদানের অর্থ বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপূজা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর ফলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। তারা অনুভব করে যে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।

 

বাংলাদেশে গত কয়েকটি দুর্গাপূজা ছিল আতঙ্কের, উদ্বেগের। বিশেষ করে গত দুই বছরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসবে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এজন্য এবারের পূজায় যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া সাড়ে ৫০০ পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেল নিয়ে দৃশ্যমান টহল পরিচালনা করা হয়েছিল। দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্থানে এসআরবির ডগ স্কোয়াড এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রয়োজনীয় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছিল। এসব সর্তকতার কারণে এবারে পুজায় কোনো ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। 

 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপ ঘিরে ৪৬টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়। সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে ২১টি।

 

পূজামণ্ডপ ঘিরে ৪৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০টি ভাঙচুর, ৪টি চুরি, ৩টি অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য আরও ১০টি ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন।

গত বছরও দূর্গাপূজার আগে সারাদেশে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পুজামণ্ডপ বন্ধ করে দেন। গুজব ছড়িয়ে একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছিল।

 

এবারও দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ছিল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছিল একাধিক স্বার্থান্বেষী মহল।

 

প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের মনে এবারও আশঙ্কার মেঘ জমেছিল। আদৌ নিরাপদে দুর্গোৎসব পালন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সকলে। এই প্রশ্নও উঠছিল, দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পরও কী মৌলবাদীদের দাপট থাকবে? ফলে শঙ্কা নিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন হিন্দুরা। 

 

এ রকম পরিস্থিতি যেন না ঘটে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার উদ্যোগ নেন। শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করেন।

 

সম্প্রীতির বার্তা দিতে পূজার শেষ অর্থাৎ নবমীতে দেশের পুজামণ্ডপগুলো ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার দেশের উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলার দুর্গা মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরও পরিদর্শন করেছেন। মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। 

 

এসময় উপস্থিত দর্শনার্থী ও ভক্তদের অনুরোধে তিনি হাসিমুখে তাদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন। রংপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। রংপুর ও রাজশাহীর দুই মণ্ডপের পূজা দেখে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে জেএম সেন হল পৌঁছান। জে এম সেন হলে গত ৪০ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

 

পরিষদের নেতারা জানান, এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী জে এম সেন হলে দুর্গাপূজা দেখতে এলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পূজামণ্ডপে উৎসবের মধ্যেও বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উলুধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মণ্ডপে স্বাগত জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যেমন ছিল ঐতিহাসিক, তেমনি এসব এলাকায় পূজা উপলক্ষে তার বক্তব্য ছিল যুগান্তরকারী। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে। তারেক রহমান যে সবার আগে বাংলাদেশ- স্লোগানে এই দেশকে বদলে দিচ্ছেন, তিন জেলায় দেওয়া বক্তব্য তার প্রমাণ। তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল। পরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সব ধর্ম-মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।

 

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তারেক রহমান বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা চায়, শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

 

তার এই বক্তব্য তারেক রহমানের প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতার প্রতীক। তিনি যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন এখন তার বাস্তবায়ন করছেন। সরেজমিনে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।


   আরও সংবাদ