ঢাকা, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দাম বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


 দাম বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ

সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম।

 

 

কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) পক্ষ থেকে সংগৃহীত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের বাজার তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সিএফের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

সিএফের পক্ষ থেকে সরেজমিন তথ্য নিয়ে অক্টোবর মাসে মোট ১৫ ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এই ১৫টি পণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। গড়ে মাছের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মসলার মধ্যে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, জিরায় বেড়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

পেঁয়াজ, রসুন, আদায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। 

 

এ ছাড়া জ্বালানি তেলে বেড়েছে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনিতে বেড়েছে ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও ডালডায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ, আটা-ময়দায় বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, ডিমের দাম আবারও বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, চায়ের দাম বেড়েছে ০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মাংসের দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

অপরদিকে সাতটি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এগুলো হচ্ছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-ট্রুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা কলম। অন্যদিকে দুটি পণ্যের দাম কমেছে, এর মধ্যে শাক-সবজি ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপায় কমেছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালীন শাক-সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কৃষি পণ্যের উৎপাদনকারীরা বলছে, শাক-সবজি বিক্রি করে তারা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না। বগুড়া, রংপুরে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬-১২ টাকা, মূলা ৬-৮ টাকা, লাউ একটা ৮-১০ টাকা, কলার হালি ৫-৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা ও কাঁচকলার হালি ৪০-৫০ টাকা।

গত সেপ্টেম্বর মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর অক্টোবর মাসে আরও বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই হিসাবে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুই মাসেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

গত সেপ্টেম্বর মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর অক্টোবর ২০২৬ মাসে আরও বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই হিসাবে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬-এই দুই মাসেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এভাবে লাগামহীনভাবে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হবে। 

সংগঠনটি বলছে, শুধু বেতন ভাতা বাড়ালে চলবে না। এর সঙ্গে শহর-নগরে বাড়ি ও দোকান ভাড়া, শিক্ষা ব্যয়, চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। একইসঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরা না গেলে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যয় ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মিনাবাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে সিএফ।


   আরও সংবাদ