ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:০২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৯ বার
বাংলাদেশ এক দীর্ঘ অমানিশার পথ পাড়ি দিয়ে আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। রাজনীতির এই বৈরী আবহাওয়া আর ষড়যন্ত্রের ঘনঘটা দেখে যারা এক সময় আশাহত হয়েছিলেন, তাদের জন্য আজ কবির সেই অমোঘ বাণী সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে—
“মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়
আড়ালে তার সূর্য হাসে।
হারা শশীর হারা হাসি
অন্ধকারেই ফিরে আসে।”
বাংলার রাজনীতির আকাশে যে নামটিকে ঘিরে গত দুই দশক ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, ষড়যন্ত্র আর অদম্য প্রত্যাশা আবর্তিত হয়েছে, তিনি তারেক রহমান।
তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নন, বরং তিনি একটি দর্শনের উত্তরাধিকারী। তাই আমাদের কামনা—“যেখানে বৃষ্টির ছাঁট লাগে না, যেখানে কোনো দুঃখ নেই,/সেখানে তুমি রাজা হয়ে থেকো, তোমার মুকুটে সোনার ফুল।”
আজ সেই মুকুটে বিজয় ও ত্যাগের সোনার ফুল ফুটেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসনের যবনিকা টেনে তারেক রহমান ফিরে এসেছেন তার চেনা মানুষের কাছে, তার প্রিয় স্বদেশের ধুলোমাখা জনপদে।
মইনুল রোডের সেই স্মৃতিঘেরা বাড়ি থেকে লন্ডনের এডজওয়্যার রোডের দীর্ঘ নির্বাসন—এই পথচলা ছিল কাঁটায় ঘেরা, কিন্তু তার অবিচল লক্ষ্য ছিল হিমালয়ের মতো অটল। আজ তিনি আবারও দাঁড়িয়ে আছেন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই পবিত্র মাটির ওপর, যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচনা করছে।

জনতা দেখল ৩০০ ফুট বিস্তৃত জমিন—ভালোবাসার সাগরে রূপান্তরিত হলো। চারিদিকে আছড়ে পড়লো সুখোচ্ছ্বল ঢেউ।
কেননা মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে তখনই, যখন বাংলার আকাশসীমায় ডানা মেলল তারবাহী বিমানটি, তখন মাটির টানে কেঁপে উঠেছিল সারা দেশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করার মুহূর্তটি ছিল এক মহাকাব্যের সমাপ্তি ও নতুন এক গল্পের শুরু। যখন বিমান থেকে নেমে প্রথম কদম রাখলেন প্রিয় স্বদেশের মাটিতে, তখন তার দুচোখ ভিজে উঠল নোনা জলে। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর সেই অমর পঙ্ক্তি যেন তার হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হলো—“আমি কোনো আগন্তুক নই/আমি কোনো অভ্যাগত নই, আমি এখানে ছিলাম/আমি এই চিরস্থায়ী মাটির মানুষ।”
পরম মমতায় নতজানু হয়ে চুম্বন করলেন এই ধূলিকণা, যার জন্য তিনি ১৭ বছর প্রতীক্ষায় ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুট রাস্তা পর্যন্ত যে জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিল সারা বাংলাদেশ যেন আজ এই রাজপথে নেমে এসেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের গগনবিদারী স্লোগান, ফুলের পাপড়ির বৃষ্টি আর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষের সেই হাহাকার বলে দিচ্ছিল—তারেক রহমান কোনো দলীয় নেতা নন, তিনি নিপীড়িত একটি জাতির কণ্ঠস্বর। মানুষের ভালোবাসার সেই সংবর্ধনা গ্রহণ করতে করতে তিনি যখন দুহাত নাড়ছিলেন, তখন বাতাসের প্রতিটি কণা যেন গেয়ে উঠছিল— “তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে।”

তারেক রহমান ফিরে এসে জনসভার মঞ্চে যখন দাঁড়ালেন, তখন তার প্রতিটি বাক্য যেন হয়ে উঠল এক একটি স্ফুলিঙ্গ। তিনি বজ্রকণ্ঠে সরাসরি জনতার উদ্দেশে বললেন—“আপনারা আমাকে আপনাদের পাশে চেয়েছেন, আমি এসেছি। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমতা চাইতে আসিনি, আপনাদের কেড়ে নেওয়া ভোটের অধিকার আর নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে এসেছি। মনে রাখবেন, জনগণের আমানত রক্ষা করাই আমাদের প্রধান ধর্ম।”
তখন লক্ষ জনতা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানায়। তার ভাষণের পরতে পরতে থাকে এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। তিনি তার কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন—“অহংকার করবেন না, মানুষের ওপর জুলুম করবেন না। সাবধান থাকবেন, ক্ষমতার দম্ভ যেন আমাদের স্পর্শ না করে। কারণ আমাদের লড়াই ছিল দীর্ঘ সময়ের অপশাসনের বিরুদ্ধে, মানুষের ওপর লাঠি ঘোরানোর জন্য নয়। আমাদের কাজ জনগণের সেবা করা।”
তিনি যখন শহীদদের স্মৃতিচারণ করে আবেগময় কণ্ঠে বলেন—“আবু সাঈদ আর মুগ্ধদের আত্মত্যাগ কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একটাই পথ—একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেখানে বিচার পেতে কাউকে ক্ষমতাশালীর দুয়ারে ভিক্ষা করতে হবে না।”
তখন আবেগ আর যুক্তির মিশেলে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়। তার কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় একটি কথা— ‘জনগণই সার্বভৌমত্বের উৎস’। তার এই উদার ও মানবিক আবেদন রাজনীতির সংজ্ঞাকেই বদলে দিয়েছে।
তারেক রহমান তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বারবার এক নতুন বাংলাদেশের কথা বলছেন, যেখানে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে না। তিনি তার ভাষণে ইনসাফ কায়েমের যে অঙ্গীকার করেছেন, তা মূলত মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত ন্যায়পরায়ণতার পথ। তিনি জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন—
“আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার হবে শাসনের মূল ভিত্তি। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিখিয়েছেন যে, বিচারের ক্ষেত্রে নিজের সন্তান হলেও সত্যের পথে অটল থাকতে হবে। ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নবীজির (সা.) সেই নীতিই হবে আমাদের পাথেয়। শাসকের কাজ জুলুম করা নয়, বরং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো এবং সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা।”
নবীজি (সা.) বিদায় হজের ভাষণে যেমন বলেছিলেন, “আরবের ওপর অনারবের কিংবা সাদার ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই”। তারেক রহমানও আজ সেই বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার শপথ নিয়েছেন। তার ৩১ দফার মূলে রয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় জুলুমের অবসান ঘটানো। তিনি বিশ্বাস করেন, শাসক হবেন জনগণের সেবক, যেমনটি নবীজির সাহাবাগণ আমরণ পালন করে গেছেন। এই ন্যায়বিচারই হবে তার আগামীর শাসনের মূল ভিত্তি।
সব রাজকীয় সংবর্ধনা, সব স্লোগান আর সব আয়োজন সাঙ্গ হলে তিনি পৌঁছেছিলেন তার মায়ের কাছে। যে মা তার অপেক্ষায় বছরের পর বছর জায়নামাজে চোখের জল ফেলেছেন, যিনি অসুস্থ শরীরেও ছেলের কথা মনে করে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, হাসপাতালে সেই মমতাময়ী মায়ের সামনে দাঁড়ানোর মুহূর্তটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি দৃশ্য।
মা ও ছেলের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎ কেবল একটি পারিবারিক বিষয় না, এটি আসলে সত্যের কাছে মিথ্যার পরাজয়। হাসপাতালে অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে যেন আফসোস দীর্ঘায়িত হয়েছে। নৈঃশব্দে উচ্চারিত হয়েছে ঠোঁটে—“আর আমি মাকে ধরে/ আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলব।” তা হয়তো আর হবার নয়!
জননীকে দেখার পর ঘরে ফিরে গেলেন তারেক। যখন সন্ধ্যা নামে সব পাখি ঘরে ফেরার নিয়মে। তারপর আবার পথ চলা। এবার তার গন্তব্য সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সেখানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি হয়তো মনে মনে বলেছিলেন, “তোমাদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতায় যে কালো দাগ পড়েছিল, তা আমি মুছে দেব”। তারপর তিনি ছুটে গেলেন শেরেবাংলা নগরে, সেই মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে।

বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যখন তিনি হাত তুললেন মোনাজাতে, তখন তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল। ১৯৮১ সালের সেই ৩০ মের স্মৃতি যেন আজ আবার ফিরে এলো। বাবার আদর্শের পতাকা হাতে নিয়ে যে ছেলেটি নিরুদ্দেশ যাত্রায় শামিল হয়েছিল, আজ সে বীরের বেশে ফিরে এসে বাবার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় নিজেকে সঁপে দিল। কবরের গালিচায় হাত রেখে তিনি যেন অনুভব করলেন পিতার সেই দৃপ্ত কণ্ঠস্বর। তারপর দুচোখ থেকে নামলো অশ্রুধারা। জলে ভিজে গেল গণ্ডদেশ।
তারেক ভুললেন না সেই সব ত্যাগী কর্মীদের, যারা বিগত ১৫ বছরে রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। শহীদ হাদির কবরের পাশে গিয়ে যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন তার প্রতিটি কর্মীর ত্যাগের কথা মনে পড়ল। আয়নাঘরের বন্দিদের আর্তনাদ আর শহীদদের রক্ত তাকে মনে করিয়ে দিল এক বিরাট দায়িত্বের কথা। তিনি শহীদ হাদির পরিবারের কান্নায় নিজের কণ্ঠ মেলালেন এবং শপথ নিলেন যে, এই রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না।

কবর জিয়ারত করতে তিনি গেলেন বনানী গোরস্তানে। সেখানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো চিরনিদ্রায় শায়িত। বড় ভাইয়ের অগোচরে যে ভাইটি বিদেশের মাটিতে চিরতরে বিদায় নিয়েছে, যাকে শেষবার দেখার সুযোগটুকুও দেয়নি তৎকালীন জালিম সরকার—সেই ভাইয়ের কবরের মাটি ছুঁয়ে তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। সেই কান্না ছিল এক ভাইহারা বিষাদের, এক অপূরণীয় ক্ষতির। কোকোর কবরের পাশে বসে থাকা সেই নিঃসঙ্গ মানুষটির কান্নায় সেদিন আকাশও যেন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি জানতেন, তার বিজয়ের এই দিনে ভাই কোকোর অভাব কোনো কিছুতেই পূরণ হবার নয়।
দুঃখ-কান্না ছাপিয়ে আজকের তারেক, অনেক পরিণত তারেক। কেননা তার রাজনীতির শেকড় প্রোথিত এক কালজয়ী নেতৃত্বের গভীরে। পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এক আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। ১৯ জানুয়ারির এক শীতের সকালে যে শিশুটি জন্মেছিলেন, তার ধমনিতে বইছে সেই মহানায়কের রক্ত, যিনি ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি ভেঙে এক বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ভিশনারি লিডার, যিনি কাদা-মাটির মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন খাল কাটা কর্মসূচি আর গ্রাম সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে।

তারেক রহমান সেই সিলসিলার এক সার্থক উত্তরসূরি। আশির দশকে যখন তিনি তরুণ, তখন থেকেই দেখেছেন পিতার কর্মযজ্ঞ। বাবার সেই দূরদর্শী চিন্তা আজ ছেলের ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। জিয়াউর রহমান যেমনটি বলতেন— “আমি জনগণের পাশে আছি এবং থাকব”। তারেক রহমানও তার রাজনৈতিক জীবনে সেই ধ্রুব সত্যকেই ধারণ করেছেন।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়েছে যার ত্যাগের মহিমায়, তিনি হলেন তার মমতাময়ী মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘আপসহীন নেত্রী’ শব্দটি কেবল একটি তকমা নয়, বরং এটি এক জীবনব্যাপী সংগ্রামের নাম। গত ১৫ বছরে তার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের চরম স্টিমরোলার। সাজানো মামলায় কারাবরণ, বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া—তবুও তিনি মাথানত করেননি।
স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী বারবার তাকে দেশ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রলোভন দেখিয়েছিল আপোসের। কিন্তু খালেদা জিয়ার এক কথা— “বিদেশে আমার কোনো বাড়ি নেই, এদেশ আমার, মাটি আমার।” মায়ের এই অদম্য জেদ আর হাড়ভাঙা সংগ্রামই তারেক রহমানকে লন্ডনের প্রতিকূল পরিবেশে লড়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। যখনই কোনো সংকট এসেছে, মা ও ছেলের এই আদর্শিক ঐক্যই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। এটি এক কাব্যময় উচ্চারণকে মনে করিয়ে দেয়—“আমার মায়ের মুখ যেন এক পবিত্র কিতাব,/যার পাতায় পাতায় লেখা আছে কান্নার ইতিহাস।” সেই কিতাবের প্রতিটি পাতা আজ বিজয়ের অক্ষরে লেখা হয়েছে।
দিনটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন স্বাধীনতা দিবস। এদিন ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান দেখল বিশ্ব। যে স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১৫ বছর বন্দুকের নল দিয়ে রাষ্ট্র শাসন করেছিলেন। যার নির্দেশে শত শত প্রাণ ঝরেছে আবু সাঈদ কিংবা মুগ্ধদের মতো বীরদের, সেই হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে চড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এই পলায়ন কেবল একজন ব্যক্তির পরাজয় ছিল না, এটি ছিল অহঙ্কার আর অপশাসনের চূড়ান্ত পতন।
লন্ডনে বসে তারেক রহমান যখন ভিডিও বার্তায় তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছিলেন রাস্তায় নামার জন্য, তখন সেই ডাক প্রতিটি প্রান্তে স্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করেছিল। শেখ হাসিনার পলায়ন প্রমাণ করে দিল যে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। আয়নাঘর আর গুমের যে সংস্কৃতি তিনি গড়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত তাকেই নিঃসঙ্গ ও নির্বাসিত করে ছেড়েছে। এই বিপ্লবের প্রতিটি স্লোগানে, প্রতিটি দেওয়ালে দেওয়ালে তারেক রহমানের ঘোষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর ছায়া ছিল স্পষ্ট।
বসে থাকার সময় নেই আর। মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। তাই তারেক রহমান এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনে মন দিতে চান। তার ঘোষিত ‘৩১ দফা’ আজ কেবল রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, এটি আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইনের শাসনের যে কথা তিনি বলেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ। তিনি শিখিয়েছেন যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়ে দেশ চালানো যায় না; দেশ চালাতে হয় সহনশীলতা আর জনগণের অংশীদারিত্ব দিয়ে। এ যেন প্রতিধ্বনিত করে—“বাতাসে মেঘের ডাক শুনলে যেমন ময়ূর নাচে,/তেমনি মুক্তির শব্দ শুনলে আমার দেশবাসী জেগে ওঠে।”
তারেক রহমানের প্রতিটি ভিডিও বার্তায় আমরা দেখেছি মুক্তির শব্দ। তার প্রতিটি আহ্বান আজ দেশবাসীকে নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা দিচ্ছে। তিনি কেবল ক্ষমতার জন্য ফেরেননি, তিনি ফিরেছেন জনগণের কেড়ে নেওয়া ভোট ফিরিয়ে দিতে।

তারেক রহমান বাস্তবত এক মহীরুহের নাম। ঝোড়ো বাতাস তাকে বারবার আঘাত করলেও তিনি নুয়ে পড়েননি। তার মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চলা দীর্ঘ অবিচারের সময় তিনি যেভাবে ধৈর্য আর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। শেখ হাসিনার পলায়ন আর তারেক রহমানের এই গৌরবময় প্রত্যাবর্তন যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—অন্যায়ের বিদায় আর ন্যায়ের অভ্যুদয়।
বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের সন্ধিক্ষণে। তারেক রহমান ফিরে এসেছেন সেই কাণ্ডারি হয়ে, যার হাতে এই রাষ্ট্র নিরাপদে তীরে পৌঁছাবে। ঢাকার আকাশে আজ আর বিষাদের কালো মেঘ নেই, আছে এক বীরের প্রত্যাবর্তনের দীপ্তি। জিয়ার রক্ত আর খালেদার আদর্শের সংমিশ্রণে তারেক রহমান আজ বাংলার মানুষের হৃদয়ে অমর আসন গেড়েছেন। সেই আত্মপ্রত্যয়ী সুরেই আজ তিনি বাংলার জনপদকে আলিঙ্গন করছেন—“আমি তো এখানে আগন্তুক নই/আমি তো কোনো ভিনদেশি পথিক নই/আমার শিকড় এখানে গাঁথা।”
তারেক রহমান ফিরেছেন সেখানে যেখানে তার নাড়ি পোঁতা আছে, যেখানে কোটি মানুষের দোয়া আর আকাঙ্ক্ষা তাকে ধ্রুবতারার মতো পথ দেখিয়েছে। আজ সেই প্রত্যাবর্তনের উৎসবে বাংলার ধূলিকণা হাসছে, কারণ তাদের প্রিয় জননেতা আজ তাদের ভালোবাসার আশ্রয়ে নিরাপদ। মেঘ সরে গেছে, এখন শুধুই সূর্যের হাসি।কেননা বিশ্বাসে বুক চওড়া হয়ে আছে—ইনসাফ আর ন্যায়বিচার নিয়ে। প্রত্যাশা এটাই, এটাই হবে আগামীর পাথেয়।