ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি \
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম
ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানার উৎপাদন দুই দিন ধরে
বন্ধ রয়েছে। কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে গত ৫
জানুয়ারী রাতে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৭ জানুয়ারী)
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উপ প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল
হক।
গত ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারী গ্যাস সংকটের কারণে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ
বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গ্যাস
সংকটে ১৩ মাস ২৩ দিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৩
ফেব্রুয়ারি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস। পরের দিন ১৪
ফেব্রুয়ারি চুল্লিতে গ্যাস সংযোগ বা ফায়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে
আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা চালু করা হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে সার
উৎপাদন শুরু হয়ে মাত্র ৪ দিনের মাথায় কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক
ত্রুটি দেখিয়ে ফের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই
সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। দীর্ঘ ২৩ মাস পর গত বছরের ২৪
নভেম্বর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সার
উৎপাদনের প্রস্তুতি নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক ও কারিগরি
ত্রুটি সারিয়ে দুই সপ্তাহ পর পুরোদমে উৎপাদন শুরুর কথা ছিলো। তবে সকল
প্রস্তুতি শেষ করে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উৎপাদন শুরু করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৫ পিএসআই গ্যাসের
প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ ছিল ৯ থেকে ১০ পিএসআই। এতে করে উৎপাদন
নেমে আসে ৪৫ শতাংশে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দৈনিক ১
হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দানাদার ইউরিয়া সার
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা স্থাপন করা হয়। গত বছর ঘোড়াশাল-
পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজারে উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে,
গত ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আন্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি। ফলে অ্যামোনিয়া ও
ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে কর্মহীন
হয়ে পড়েন শ্রমিকরা।
এদিকে, গত বছর ২৩ ডিসেম্বর ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করলেও অ্যামোনিয়া
প্লান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারী রাত থেকে ফের উৎপাদন বন্ধ
করে দেয় কর্তৃপক্ষ। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৯
জেলায় প্রায় আড়াই হাজার সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করা
হয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার কমান্ডিং এরিয়ায় সার সংকট হওয়ায়
শঙ্কা দেখা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে কারখানার উপ প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক বলেন, যান্ত্রিক
ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারী রাত থেকে যমুনায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ
রয়েছে। মেরামতের কাজ শেষ করে অতি দ্রুত উৎপাদনে যাওয়া যাবে।