ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা প্রার্থীর হলফনামায় স্বাক্ষর, তারিখ, ছবি না থাকার পরও কীভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলো? এমনকি হলফনামায় একাধিক কলাম ফাঁকা রাখা ও ভুল তথ্য প্রদান সত্ত্বেও কীভাবে একজন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই আসনেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিলও দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রথমে যে হলফনামা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে অসংখ্য অনিয়ম ও ত্রুটি ছিল, কিন্তু মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর রাতারাতি আগের হলফনামা সরিয়ে নতুন হলফনামা আপলোড করা হয়েছে।
এতে প্রার্থীর ভুল সংশোধনের দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যে অনিয়মে বাতিল হওয়ার কথা ছিল মনোনয়ন : নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না, হলফনামা সম্পূর্ণ পূরণ ও যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। প্রার্থীর স্বাক্ষর, তারিখ ও ছবি সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় আইন ও বিধির একাধিক মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হলফনামায় যা যা অনুপস্থিত : আপিলে দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী হলফনামার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে রয়েছে অসংখ্য ভুল, অসম্পূর্ণ ও গোপন তথ্য। ৩ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ৩ নম্বর কলামের ‘গ’ অনুচ্ছেদ অসম্পূর্ণ, ৭ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ৭ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদ অসম্পূর্ণ, ৭ নম্বর কলামের ‘গ’ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ খালি, ৮ নম্বর কলাম ফাঁকা রাখা, ১০ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য প্রদান।
আপিলকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলছেন, ‘এগুলো কোনো সাধারণ ত্রুটি নয়, এগুলো সরাসরি আইন লঙ্ঘন।’ এতে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
কারণ ৩ জানুয়ারি যাচাইবাছাইয়ের দিন এত সব ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জেলা রিটার্নিং অফিসার কোনো আপত্তি তোলেননি। বরং মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে আগের হলফনামা সরিয়ে নতুন হলফনামা আপলোড করার অভিযোগ।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, ‘যে হলফনামার অনিয়মে হুদার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরে পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
’ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ-৫ : সৈয়দ এহসানুল হুদার বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ বিবেচনায় মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি করা হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টি কমিশন কীভাবে মূল্যায়ন করে তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ।
এ নিয়ে আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশনের শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।