ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
রামপুরা, নরসিংদীসহ নির্বাচন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের নির্যাতন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের এবং যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দ্বারা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা জানার পর দেখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা শুরু করে। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
মানববন্ধনে ‘ধর্ষক-খুনির কোনো ছাড় নেই, বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই’, ‘অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, অপরাধীর কোনো রেহাই নয়’, ‘রামপুরা থেকে নরসিংদী বিচার চাই নিরবধি’, ‘সহনশীলতা চাই বিদ্বেষ নয়’, ‘প্রশাসনের জবাবদিহি চাই নিরাপদ দেশ গড়তেই হবে ভাই’, ‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তোলো’, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো’, ‘নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায় অবহেলা আর চলবে না ভাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নির্বাচনের দিন থেকেই স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা পাশবিকতার শিকার হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি ও সহিংসতায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীসহ সারা দেশের দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে শিশুরাও এমন মানুষরূপী হায়নার কাছ থেকে বাঁচতে পারছে না।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে গ্রেপ্তার করে কিছু সময়ক্ষেপণ করা হয়। আসল দোষীদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি না। এটা একদিন নয়, একাধিকবার হচ্ছে এ থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নারী নির্যাতন শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। আসুন মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো– নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; এ ধরনের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।
এছাড়া প্রতিটি মা বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; গ্রেপ্তার অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে; মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জান্নাতুল করিম সুইট বলেন, ঝিনাইদহের তাবাসসুম এবং নরসিংদীর আমেনা এবং ঢাকার তাহিয়া– এ মিছিল থামবে কবে? আমি বলতে চাই, কখন একটি দেশে নারী নির্যাতন এমনকি শিশুর ওপর গণধর্ষণ এবং নির্মমভাবে খুনের ঘটনা এত ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। যখন সে সমাজ ভেতর থেকে পচে যায়। আমরা দেখি যখন একটি দেশ বিচারহীনতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, ব্যাপক হাহাকার বেড়ে যায়, যখন সমাজের প্রভাবশালী অংশ এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লালিত তথাকথিত মানুষ নামের পশুগুলো ছাড় পেয়ে যায়, তখনই এই বর্বরতা শেষ সীমায় পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, জনগণকে সামনে রেখেই বলতে চাই যারা সরকারে আছেন– ৫ আগস্টের পর একটা নতুন বাংলাদেশ আমরা চেয়েছি। যেখানে নারীরা নিরাপদে থাকবে, নারীদের সম্মান রক্ষিত হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আমাদের ধুলোয় ভূলুণ্ঠিত হলো। আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন দল, ৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ৬৩টি ধর্ষণের সঙ্গে তারা সরাসরি সংযুক্ত ছিল। এখনো যে ধর্ষণ-নারী নিগ্রহের ঘটনাগুলো ঘটছে আমরা দেখছি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
জান্নাতুল করিম সুইট বলেন, যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন এই শিশুদের আর্তচিৎকার এবং নারী নিগ্রহের ঘটনাগুলোই আপনাদের সিংহাসন উল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং সতর্ক হোন। জনগণকে বুঝ দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে গ্রেপ্তার-আইওয়াশ আমরা চাই না। আমরা চাই তাৎক্ষণিক বিচার। আগামী এক সপ্তাহের ভেতরে যারা এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করুন এবং আপনাদের দলের যারা এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা যে পরিচয়ই হোক, সরকার হোক অথবা অন্য কোনো দলের হোক, তাদেরকে শুধু বহিষ্কার নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স আমরা সর্বক্ষেত্রে চাই। এটাই আজকের এই সমাবেশ থেকে, এই মানববন্ধন থেকে পুরো জাতির কাছে, আমাদের সরকারের কাছে প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ও ঢাকা মহানগরী উত্তর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আমেনা বেগম বলেন, আমরা এই পবিত্র মাহে রমজানে, যেখানে রমজান মাস হচ্ছে আমাদের জন্য শান্তি শৃঙ্খলা সুরক্ষার মাস, সেই মাসে আজকে আমাদের রাস্তায় বের হতে হয়েছে। যে শিশুরা ফুলের মতো পবিত্র, সেই শিশুদের ওপর… রামপুরা, নরসিংদী, ঝিনাইদহ এবং বিভিন্ন জায়গায় শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। শিশুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন করে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, শিশু ও নারীদের নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশবিক নির্যাতন করে শিশুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, যা আইয়ামে জাহিলিয়ার যুগকে অতিক্রম করছে। যা মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে। শিশুদের জন্য কোনো ভালোবাসা কি আমাদের মধ্যে নেই? অভিভাবক সমাজকে বলতে চাই, আর বসে থাকার সময় নেই। সচেতন হয়ে নেমে আসতে হবে অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা নারী সমাজের অধিকার, মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, শিশুদের নিরাপত্তা দিতে চাই। এজন্য শিশুদের নির্যাতনে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা দাবি করছি।