ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
তঢাকা: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬-এ ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্যের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তামাকবিরোধী সংগঠন সমূহ। এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে বলেও জানানো হয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনসমূহ:
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেট (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ নেটওয়ার্ক (বিটিসিআরএন), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, এইড সোসাইটি, আর্থ ফাউন্ডেশন, সেতু, লিডার্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, লেটথ ওয়ার্ক, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্য আন্দোলন, তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ), ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো, স্কুল অব লাইফ এবং ইয়ুথ ফর টোব্যাকো ফ্রি বাংলাদেশ।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনগুলো বলছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগের এক রায়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।
নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রণী অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমান সংশোধন সেই অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ের বিষয় বিবেচনায় রেখে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে সংগঠনগুলোর দাবি, দেশে তামাকজনিত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিকর হবে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তারা জানায়, বিশ্বের ১৩২টি দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে ৪৬টি দেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে বলে তারা মন্তব্য করে।
এছাড়া ই-সিগারেটকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের মাদক ব্যবহারের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়। কিছু অসাধু চক্র ভ্যাপ লিকুইডে বিপজ্জনক মাদক মিশিয়ে সরবরাহ করছে, যা যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
একইসঙ্গে স্বল্প বিনিয়োগে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট পুনরায় নিষিদ্ধ করার জন্য দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন বাতিলের দাবিও জানানো হয়।