ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান।
এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এক অবিস্মরণীয় অবদান।
আজকের এই সঙ্গীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দেবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের প্রতি ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। এই আয়োজন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন, ‘সকল মানুষ সমান। আর আজ আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আমরা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ককাস সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।