ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

গাজী নজরুলের বিষয়ে এখন কী করবে জামায়াত

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


গাজী নজরুলের বিষয়ে এখন কী করবে জামায়াত

এক তরুণীর সঙ্গে নিজের ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম বলছেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ১৭ জুন ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন।

 

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন মি. ইসলাম, যাতে তারিখ উল্লেখ আছে ২২ জুন ২০২৬।

ওই জীবনবৃত্তান্তে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।

 

ভাইরাল হওয়া ওই জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তরুণীটি ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেছেন।

অর্থাৎ ৭৭ বছর বয়সী মি. ইসলামের দাবি অনুযায়ী, ১৭ জুন বিয়ে হলে ওই দিন তরুণীর বয়স ছিল ১৮ বছর ২৬ দিন।

 

গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে জামায়াত দলীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সংসদে জানিয়েছিলেন, মি. ইসলাম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

 

আরও পড়ুন

জামায়াতের এমপি নজরুল বললেন, ‘ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি’

জামায়াতের এমপি নজরুল বললেন, ‘ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি’

 

এদিকে তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ‘মেয়েদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে মি. ইসলামের একটি পুরোনো বক্তব্যের ভিডিও নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, ঘটনাটির দিকে তারা দলীয়ভাবে নজর রাখছেন এবং বেআইনি বা অবৈধ কিছুর প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী দল ব্যবস্থা নেবে।

তার দল জামায়াতের পক্ষ থেকেও একই বক্তব্য দিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় ভাইরাল ভিডিও

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুলকে সালোয়ার-কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। তার এই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এমপি গাজী নজরুল ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেছেন। 

আরও পড়ুন

জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিওটি আসল: রিউমর স্ক্যানার

জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিওটি আসল: রিউমর স্ক্যানার

 

এদিকে ওই তরুণী তার বিবাহিত স্ত্রী হয়ে থাকলে তার মামা কেন এটি করবেন, সেই প্রশ্নের কোনো জবাব কোনো পক্ষ থেকেই আসেনি।

সোমবার বিকেল থেকেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকেরা এটি 'এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে' উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল নাগাদ কয়েকটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়।

এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আজ দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দেন এমপি গাজী নজরুল।

এতে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে 'প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই' বলে তিনি দাবি করেন।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা ওই অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ পড়ার আগে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করে।

আরও পড়ুন

এমপি গাজী নজরুলের ঘটনায় ‘তথ্য-উপাত্ত’ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে জামায়াত

এমপি গাজী নজরুলের ঘটনায় ‘তথ্য-উপাত্ত’ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে জামায়াত

 

তিনি ওই বিবৃতিতে আরও বলেন, আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্ব-শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকজন জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন, এ দাবি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এমপি গাজী নজরুলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে মগবাজারে, যা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছেই। সাধারণত ওই এলাকায় জামায়াতের বহু কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি থাকে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না, কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন। তারপরও আমরা সাংগঠনিকভাবে দেখবো, তাকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে না-কি অন্য কিছু হয়েছে। সেটি দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো।

প্রথম স্ত্রী ও তরুণীর বক্তব্য

মঙ্গলবার দুপুরের পর এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিওবার্তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা যায়।

এতে তিনি বলেন, আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) বিয়ে হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আরেকটি ভিডিওবার্তা দেন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা যাওয়া তরুণী। ভিডিওতে তাকে মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।

প্রথমত, আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ১৩ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান।

এখন কী করবে জামায়াত

জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদীয় দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে নজর রাখছেন।

তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নানাভাবে এসেছে। ওনার ও তার স্ত্রীদের বক্তব্যও এসেছে। তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু না করে থাকেন, তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই জামায়াত দল হিসেবে ব্যবস্থা নেবে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব বলেছেন, সঙ্গে তার স্ত্রী ছিলেন। এখন সেই ভিডিও কীভাবে ভাইরাল হলো, সেই তথ্য উদঘাটন করতে হবে। এটি কি তাকে হেয় করার চেষ্টা, নাকি অন্য কোনো বিষয়, সেটি সাংগঠনিকভাবে দেখে, শুনে ও বুঝে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

গাজী নজরুলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল শোরগোলের মধ্যেই জামায়াতের এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


   আরও সংবাদ