ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট, ২০২৬ ২১:১০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সামগ্রিকভাবে নিরাপদ পানি সরবরাহে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রকল্প অনুমোদনের পরও এখন পর্যন্ত গভীর নলকূপ স্থাপনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ৪৬.০৩.০০০০.০০১.০৪.৩১৯.১৮-৫৫৬৭৫ এর মাধ্যমে রাজস্ব বাজেটের আওতায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য পত্র প্রদান করা হয়েছিল। আবেদনে দিঘলিয়া উপজেলার খানবাড়ি এলাকার জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি ইতিপূর্বে অনুমোদিত হয়েছে এবং সরকারি ব্যয়ের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে—এমন বিষয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এতদিন পার হলেও গভীর নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। কোথাও কোথাও পানির মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ফলে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে এলাকার মানুষের নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘদিনের পানির সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বরাবর আবেদনটি দাখিল করা হয়েছিল। আবেদনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যালয়, পানি উৎস, পর্যাপ্ত কার্যকর নলকূপের অভাব এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ পানির সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আর বিলম্ব না করে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে তার বিপরীতে বাস্তবে কাজ হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানি সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবেন।