ঢাকা, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার


পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান

দীর্ঘ নয় মাস পর অবশেষে বোন ও স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তাদের এই সাক্ষাৎ হয়।

ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির অনলাইন সংস্করণের বরাতে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর আদিয়ালা কারাগারের সম্মেলন কক্ষে ইমরানের সঙ্গে তাঁর বোন নোরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ হয়।

চলতি বছরে এই প্রথম নোরিন তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন। সাক্ষাৎটি প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

 

 

 

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাতে ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও সাম্প্রতিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা হয়। নোরিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার বিষয়েও জানান।

ওই নির্দেশনায় শারীরিক পরীক্ষার জন্য ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে।

 

তবে সাক্ষাতের পর রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি নোরিন। কারণ, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে-কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে এই সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইমরানের অন্য দুই বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং তাঁর ফুফাতো ভাই কাসিম জামানকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পিটিআইয়ের কোনো রাজনৈতিক নেতাকেও কারাগারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও আলাদাভাবে দেখা করেন ইমরান। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই কারাগারের সম্মেলন কক্ষে ইমরান ও বুশরার সাক্ষাৎ প্রায় ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এর আগে গত জুনেও দুজনের মধ্যে ৪৫ মিনিটের একটি সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

একই কারাগারে বন্দী বুশরা বিবিও দীর্ঘদিন পর তাঁর আগের সংসারের সন্তান মুসা, মুবাশশারা মানেকা এবং জা মেহেরুন্নেসার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কাটান তিনি।

৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

ইমরানের কারাবন্দিত্বের সময় তার পরিবার ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। গত জুনেও তাঁর বোনেরা ও পিটিআই নেতারা একাধিকবার আদিয়ালা কারাগারে গিয়েও সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ইমরানের পরিবার, আইনজীবী ও সহযোগীদের সপ্তাহে দুই দিন সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল।

সম্প্রতি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। তার চিকিৎসা ও পরিবার-আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের আদালতে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন উজমা খান তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

ইমরানের চিকিৎসা ও কারাগারে তার অবস্থান নিয়ে আদালতের নির্দেশনা এখন দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়াকে তাঁর পরিবারের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: ডন, সামা টিভি


   আরও সংবাদ