আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অগাস্ট, ২০২৬ ১৭:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ‘কিউ-লাইনার’ বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে পার্কিংয়ের খুঁটি ও নিরাপত্তা কাঠামো সরিয়ে দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টা এ পদক্ষেপ নিলো নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সকালে বুলডোজার দিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাইকমিশনের সামনের এলাকায় ভাঙা রেলিং, ধাতব কাঠামো, প্লাস্টার, কংক্রিট ও ইট ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে টিনের শেড ও ধাতব বেড়ার অংশও দেখা যায়।
তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল ভবন ও প্রধান প্রবেশপথ অক্ষত রয়েছে।
ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এএনআই জানায়, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে স্থাপিত ‘কিউ-লাইনার’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা পার্কিংয়ের খুঁটি সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে ও ভিসা বিভাগের কাছে ব্যারিকেড, ধাতব রেলিং এবং গেটসহ কয়েকটি কাঠামো স্থাপন করা হয়েছিল। এসব কাঠামো অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেয়।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা পার্কিংয়ের খুঁটি সরিয়ে দেয় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা কিছু পার্কিং কাঠামো ও নিরাপত্তা বেষ্টনী সরানোর উদ্যোগ নেয় ভারত।
২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে ভারত। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে।
পরবর্তী সময়ে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। ১০ মে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সামরিক সংঘাত থামলেও পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বুধবার (১৯ আগস্ট) জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর সফর করেন। সেখানে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সফরকালে গোর জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথাও জানান তিনি।
মার্কিন এই কূটনীতিকের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে গোরের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তান ওই মন্তব্যকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে দাবি করেছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক স্থাপনা ঘিরে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্যেই পাকিস্তান হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চলমান উত্তেজনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।