আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার প্রকাশিত নতুন এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় কাউন্সিল জানায়, সামনে ইহুদিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের পর এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কাউন্সিলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব বিক্ষোভের কোনো কোনোটি ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য হামাস তৎপরতা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
একই সঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার হুমকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনভিত্তিক হুতিদের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা মূল্যায়নে ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উচ্চঝুঁকির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসরে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে মিসরের সিনাই উপত্যকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পাশাপাশি বিমান ট্রানজিটের সময় বিমানবন্দর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনত নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এসব বিধিনিষেধ দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইসরাইলিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকে ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করার জন্য ইসরায়েলি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াতও খুব সীমিত। তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে প্রকাশিত ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সতর্কতামূলক তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।