আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর রাজধানীমুখী লং মার্চ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি সরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীর ২৪টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ছুটির বিষয়টি জানিয়ে দেয়।
জি-৭ সেক্টর ও সিতারা মার্কেট এলাকার স্কুল ভবনগুলোতে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া এফ-৭/৩ সেক্টরের একটি সরকারি স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানিয়েছে, ইসলামাবাদ প্রশাসন রোববার সন্ধ্যা থেকে ২৪টি সরকারি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসলামাবাদ মডেল স্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, মডেল কলেজ ও ছেলেদের মডেল স্কুল রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেড জোনে কনটেইনার বসিয়ে এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানীমুখী এই কর্মসূচি শুরু করেছে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। পেট্রোলিয়াম কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবিতে দলটি রোববার করাচি থেকে ট্রেনযোগে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দলটির প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আরব নিউজ জানিয়েছে, ইসলামাবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসন আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। রাজধানীর রেড জোন সিল করতে কনটেইনার বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফেরও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ, দ্য নিউজ, ডন