ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে রাজধানীর অনেক কাঁচাবাজার। বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকলেও নিত্যপণ্যের সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
ফলে অধিকাংশ পণ্যের দামও রয়েছে আগের মতো। তবে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
ছুটি শেষে রোববার থেকে অফিস-আদালত খুললে বাজারে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামবাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, রায়সাহেব বাজার ও নয়াবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক কম। দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় যাওয়ায় বাজারে কেনাকাটা কমেছে।
এতে বিক্রেতাদের বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে। তবে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

সবজির দাম চড়া
বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা, কচুমুখী ও পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ও কাঁকরোল ১০০ টাকা, আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা এবং শিম ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম মানভেদে কেজিতে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।
শ্যামবাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, দীর্ঘ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাহিদা কমেছে। তবে সেই অনুপাতে ঢাকার বাইরে থেকে সবজির সরবরাহ কমেনি। ফলে বিক্রি না হওয়ায় কিছু সবজি নষ্ট হচ্ছে। এতে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার দাম কিছুটা বেশি। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে বাজারে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

আদা-রসুনে বাড়তি দাম
শ্যামবাজারে আলু, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজারেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তবে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিক্রেতা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। কিন্তু পণ্যের সরবরাহ কমেনি। আমদানিনির্ভর আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে।
তিনি জানান, আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ২০০ ও ২৪০ টাকা হয়েছে। তার দাবি, ঋণপত্র (এলসি) খোলার সমস্যায় এসব পণ্যের আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ টাকা। নতুন পেঁয়াজের মৌসুম আসতে দেরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মাছ-মাংসের বাজারেও ক্রেতা কম
মাছের বাজারে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, চিতল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বেলে মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের আকার, প্রজাতি ও জীবিত থাকার ওপর দাম নির্ভর করছে। বাজারভেদেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পার্থক্য রয়েছে।
ধূপখোলা মাঠ বাজারের মাছ বিক্রেতা বিজয় দাস বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। তবে ছুটির কারণে ক্রেতা কম থাকায় তিনিও মাছ কম এনেছেন। ছুটি শেষে রোববার থেকে বাজার জমে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
মুরগির বাজারে সোনালি ও কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গত দুই দিন ধরে বিক্রি কমেছে। মুরগি কিনে দোকানে রাখার পরও পরিচর্যার খরচ রয়েছে। এভাবে বিক্রি কম থাকলে লোকসান গুনতে হবে।
বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধূপখোলা মাঠ বাজারের মাংস বিক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, ছুটির কারণে ক্রেতা কম থাকায় খাসি জবাইও কমিয়ে দিয়েছেন। আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি খাসি জবাই করলেও এখন করছেন পাঁচ থেকে ছয়টি।

ডিম ও ডালে কিছুটা স্বস্তি
বাজারে ফার্মের ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। গত দুই দিনে ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে লাল ডিমের ডজন ছিল ১৫০ টাকা ও সাদা ডিম ১৪৫ টাকা।
মসুর ডালের দামও কমেছে। সরু মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা মসুর ডালের কেজি ৯০ টাকা। ছোলার ডাল ১৪০ টাকা ও মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। মিনিকেট চালের কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং স্বর্ণা ও বিআর-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহে ধীরগতির কথা বলে কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল লিটারে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
শ্যামবাজারের মুদি পণ্যের বিক্রেতা মো. জাকির হোসেন বলেন, চাল, তেল, চিনি, লবণ ও আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পূজার ছুটিতে এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির কারণে ক্রেতার সংখ্যা কমলেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে ছুটি শেষে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়লে বেচাকেনা স্বাভাবিক হতে পারে।