স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
বিশ্বমানের মাঠ, জিম, সুইমিংপুল থেকে শুরু করে চমৎকার সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সব মিলিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটির অবকাঠামো দেখে রীতিমতো মুগ্ধ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। চলমান ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ-২০২৬’-এর দারুণ উত্তেজনা আর এমন আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বিশ্ববিদ্যালয় কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। রোমাঞ্চকর সেই লড়াই শেষে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় এআইইউবি গোলরক্ষক মেহেদীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডুলি।
ম্যাচ শেষের আনুষ্ঠানিকতায় এবিজি স্পোর্টস সিটির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা তুলে ধরেন জাতীয় দলের এই কোচ। তিনি বলেন, এখানকার সুযোগ সুবিধা একেবারেই প্রথম শ্রেণির।
আমি যখন প্রথমবার স্টেডিয়ামটি দেখি, আমার কাছে দারুণ সুন্দর লেগেছে। এখানকার মাঠ এবং স্টেডিয়াম এককথায় অসাধারণ।
আমি জিম, সুইমিংপুল, কফি এরিয়া থেকে শুরু করে পুরো স্পোর্টস কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেছি, এখানকার সবকিছুই প্রথম শ্রেণির।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ফুটবলে এমন দুর্দান্ত আয়োজন ও উদ্দীপনা দেখে মুগ্ধ হন ডুলি। বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনার প্রশংসাই ঝরেছে তার কণ্ঠে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো দলের জন্য এ দেশের মানুষের যে আবেগ, সেটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার এমন ফুটবল-প্রেম তার বেশ ভালো লাগে।
মাঠে বসে সেমিফাইনালের শেষ পনেরো মিনিট খেলা উপভোগ করে ডুলি বলেন, ম্যাচের শেষ দিকটা আমি দেখেছি। তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাটা বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। আমরা সবাই তো এটাই চাই গোল করতে চাই, সামনে এগিয়ে খেলতে চাই। আমি মনে করি, অদূর ভবিষ্যতে এই জায়গা থেকে দারুণ কিছু উঠে আসবে।
তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে জাতীয় দলে খেলার মতো কাউকে চোখে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নে ডুলি জানান, আরেকটু সময় নিয়ে এই তরুণদের তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চান। তবে কিছু খেলোয়াড়ের ফার্স্ট টাচ ও মুভমেন্ট দেখে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। পাশাপাশি তরুণ ফুটবলারদের দ্রুত গেম রিড করা এবং বল রিসিভ করার আগেই পরিস্থিতি স্ক্যান করে পরের দুই-তিন সেকেন্ডের পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দেন তিনি। ডুলির বিশ্বাস, এই একটি কাজ করতে পারলে তরুণদের খেলায় আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি আসবে।
কোচ থমাস ডুলির এমন অনুপ্রেরণাদায়ী কথার মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পর্দা নামতে যাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই জমজমাট আসরের। কিংস অ্যারেনার ফাইনালে ১০ লাখ টাকার প্রাইজমানি ও চ্যাম্পিয়ন শিরোপার লক্ষ্যে মুখোমুখি হবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এআইইউবি। রানার্সআপ দল পাবে ৫ লাখ টাকা। দেশের ফুটবলের প্রতিভা তুলে আনার এই দারুণ প্ল্যাটফর্ম যেন ডুলির মতো বিশেষজ্ঞদের চোখেও সম্ভাবনার নতুন এক দুয়ার খুলে দিয়েছে।