ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রমজান মাস কেন শ্রেষ্ঠ?

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


রমজান মাস কেন শ্রেষ্ঠ?

মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পুণ্যময় মাস রমজানুল মোবারক। বছর ঘুরে রমজান মাস মুমিনের জীবনে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের কারণ হয়ে আগমন করে। এটি শুধু সিয়াম সাধনার মাস নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত বর্ষণের, গুনাহ মাফের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিশেষ সময়। এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

 

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (সহিহ বুখারি:১৮৯৯;সহিহ মুসলিম:১০৭৯) 

এই একটি হাদিসই রমজানের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। এখন আলোচনার পয়েন্টগুলো আলাদাভাবে তুলে ধরা যাক।

জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়

রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য নেক আমলের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার অর্থ ১. নেক কাজ কবুলের সম্ভাবনা বৃদ্ধি ২.বান্দাদেরকে ইবাদতে উৎসাহ দেওয়া ৩.আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের বিশেষ ঘোষণা, এ মাসে ফরজ ইবাদতের সওয়াব বহু গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং নফল ইবাদত ফরজের মর্যাদা পায়। 

 

জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়

এটি আল্লাহর অসীম দয়ার এক অনন্য প্রকাশ। যারা তাওবা করে, যারা সিয়াম ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে, তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথ সহজ করে দেওয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহ বহু বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেন।

(সুনান ইবনু মাজাহ:১৬৪২)

 

শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়

রমজানে শয়তানদের কুমন্ত্রণার শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে ১.গুনাহের প্রতি আকর্ষণ কমে ২.ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে ৩.অন্তর নরম হয় এ মাসে যদি কেউ গুনাহে লিপ্ত থাকে, তবে তা মূলত তার নিজের নফসের দুর্বলতার কারণেই হয়ে থাকে।

লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এক রাত রমজানের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা বলেন, لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা কদর:৩) এই এক রাতের ইবাদত প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমান।

 

এ রাতে, ১.ফেরেশতারা অবতরণ করেন ২.আল্লাহর রহমত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ৩. তাকদিরের ফায়সালা বাস্তবায়নের জন্য লিখিত হয়।

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পূর্ণ প্যাকেজ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ রমজানের প্রথম অংশ রহমত, মধ্য অংশ মাগফিরাত এবং শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। (বায়হাকি  শুআবুল ঈমান:৩৩৩৬)

রমজান এমন এক মাস, যা আমাদের গুনাহ ধুয়ে পরিষ্কার করে, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন করে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করে, غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৮সহিহ মুসলিম: ৭৬০) 


   আরও সংবাদ