ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৮:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৭ বার
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনেই মুখ রক্ষা করতে পারেননি বামপন্থি দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা। এই জোটের কোনো প্রার্থীরই জামানত টিকেনি। অর্থাৎ আসনে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিএনপি ২১২ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। ৬৮ আসনে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আর ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠকদের দল এনসিপি। এছাড়া আরও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে পেয়েছে ১১টি আসন।
বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল। গত বছর ২৯ নভেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। নতুন এই জোটে পরে আরও বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে যুক্ত করা হয়। এই যুক্তফ্রন্টে হয় আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম।
জোটগতভাবে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়।
এই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে চারটি। দলগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ। এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়। মোট ৯৭টি আসনে জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল।
এর বাইরে জোট থেকে নিজস্বভাবেও দলগুলো প্রার্থী দিয়েছিল। সব মিলিয়ে এই জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থী ছিল ১৪৭টি আসনে। এর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী ছিল ৬৫ আসনে, বাসদের প্রার্থী ছিল ৩৭ আসনে, বাসদের (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ছিল ১৫টি আসনে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন জোটের শরিক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মণীষা চক্রবর্তী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বরিশাল-৫ আসন থেকে। মণীষা চক্রবর্তী ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনে যত সংখ্যক ভোট পড়বে, তার আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ১৪৭টি আসনে বাম দলগুলোর যে প্রার্থীরা লড়েছিলেন, তারা সেসব আসনের প্রত্যেকটিতে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি
এ বিষয়ে বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, গৃহীত ভোটের শতকরা ৮ ভাগ ভোট যদি প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে। আর যদি গৃহীত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটের প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে না। অন্যান্য আসনে আমাদের জোটের অন্য প্রার্থীরা অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। অনেকেই এক হাজারের নিচে ভোট পেয়েছেন।
এই জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিজয়ী হন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে জামানত টিকিয়ে রাখতে পারেননি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ১০ ভোট পেয়েছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুইজনই জামানত হারিয়েছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রার্থী হয়েছিলেন নরসিংদী-৪ আসন থেকে এবং আবদুল্লাহ কাফী রতন প্রার্থী হয়েছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনে।
এই জোটের অধিকাংশ প্রার্থীই ভোট পেয়েছেন এক হাজারের নিচে। কোনো কোনো প্রার্থী দুই বা তিন হাজার ভোট পেয়েছেন।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক সিপিবি থেকে মোট ৬৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কিশোর রায়। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৯টি।
এছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এএইচএম রফিকুজ্জামান আকন্দ কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) এএফএম ইসমাইল চৌধুরী মোটরগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ ভোট।
সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণবজ্যোতি পাল মই প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ ভোট।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আনোয়ার হোসেন সুমন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৯০৮ ভোট। আর বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
ঢাকা–৫ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি পেয়েছেন ২২১ ভোট। ঢাকা–৭ আসনে দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম ২০৮ ভোট পেয়েছেন। বাসদ (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত পেয়েছেন ৬৭৭ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব পেয়েছেন ৩৭০ ভোট।
জয়পুরহাট-১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর তৌফিকা দেওয়ান ৬১৭ ভোট এবং বাসদ প্রার্থী ওয়াজেদ আলী ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে এই ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলানিউজকে বলেন, আসনে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে ভোটাররা দ্বিদলীয় হিসাবের মধ্যে পড়ে, যেটা আমরা দেখেছি। কোন দল ক্ষমতায় যাবে, কোন দল কাছাকাছি থাকবে। আমাদের কিছু প্রার্থীর অবস্থা ভালো ছিল, তাদের জনপ্রিয়তাও আছে, কিন্তু শেষ ভোটের হিসাবে সেটার প্রতিফলন ঘটেনি। ভোটে দ্বিদলীয় হিসাবটাই প্রাধান্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর আমাদের দুর্বলতাগুলো কী কী আছে, সেটা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করে মূল্যায়ন করব।