ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২০:৩৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশে যেন কেউ রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সরকার সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় তিনদিনের সরকারি সফরে গিয়ে এক গণ-ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী চরের জমি জোরপূর্বক দখল রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকরা যেন তাদের জমির প্রকৃত মালিকানা ভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাট-বাজার, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাটে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দিন শেষ। ইতোমধ্যে আমখোলা তরমুজ ঘাট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ব্যবসায়ী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাঁদা বা অনৈতিক সুবিধা দিতে বাধ্য না হন। এ বিষয়ে উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় কোনো যুবক যেন বেকার না থাকে, তাদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইফতারের আগে দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে চান। গলাচিপা-দশমীয়াসহ পুরো এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক- এটাই তার প্রত্যাশা।
তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আগে যে ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর বা আতঙ্কের ঘটনা ঘটত, বর্তমানে সেই পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও হয়রানিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা, পরিবহন খাতে অনিয়ম বন্ধ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
এসময় গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।