ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সৌদি-কুয়েত-কাতার-আমিরাতের তেল–গ্যাসক্ষেত্রে একের পর এক ইরানি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


সৌদি-কুয়েত-কাতার-আমিরাতের তেল–গ্যাসক্ষেত্রে একের পর এক ইরানি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরো অঞ্চলে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত; চারটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শক্তিধর দেশের তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

 

সৌদি আরবে, লোহিত সাগর তীরবর্তী শিল্পনগরী ইয়ানবুর ‘সামরেফ’ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই শোধনাগারটি সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এদিকে কুয়েতেও বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলার ফলে সীমিত পরিসরে আগুন ধরে গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

 

 

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বরাতে কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলেও উত্তেজনার ছাপ দেখা গেছে। দেশটির খোর ফাক্কান উপকূলের কাছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত বস্তু’র আঘাতে আগুন ধরে যায়।

 

 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোরের দিকে হামলাটি ঘটে এবং জাহাজটি তখন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অবস্থান করছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটিতে হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি।

 

 

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, রাস লাফানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলায় কাতার এনার্জির ‘পার্ল জিটিএল’ স্থাপনাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক এসব হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা


   আরও সংবাদ