ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পাকিস্তানে ইউএস-ইরান সংলাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


পাকিস্তানে ইউএস-ইরান সংলাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি সম্ভাব্য ‘অফ-র‍্যাম্প’ খুঁজতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে গভীর অবিশ্বাস, যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই আলোচনাকে শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

 

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইতোমধ্যে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, রেড জোন সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলো সীমিত করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার ছয় সপ্তাহ পর এই আলোচনা হতে যাচ্ছে। ওই হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

এরপর যুদ্ধে বহু দেশে হাজারো প্রাণহানি ঘটে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 

কখন ও কোথায়
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, এই আলোচনা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রতিনিধি দলগুলোর অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ৯ ও ১০ এপ্রিল রাজধানীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কারা থাকছেন
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। তবে আইআরজিসির কোনো প্রতিনিধি থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনার আয়োজক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন বলে জানা গেছে।

শনিবার দুই দেশের প্রতিনিধি দল আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান তাকে তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থানের হিসেবে দেখছে।

এজেন্ডায় কী আছে
হরমুজ প্রণালীর ওপর তদারকি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধসহ ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি—ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগ করতে হবে, যা তারা ‘অ-আলোচনাযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

লেবানন ইস্যুতে বড় মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করছে।

কেন পাকিস্তান
পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটির সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক—দুই পক্ষের কাছেই ইসলামাবাদকে গ্রহণযোগ্য করেছে।

প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বাধা। এছাড়া ইসরায়েলের চলমান হামলা আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে।

লেবানন ইস্যু এখন একটি ‘ব্রেকিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠেছে। ইরান জোর দিচ্ছে হামলা বন্ধে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তা আলোচনার অংশ হিসেবে দেখছে না।

তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, উভয় পক্ষের ক্লান্তি এবং যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা একটি সীমিত সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে।

এ অবস্থায়, ইসলামাবাদের এই আলোচনা তাৎক্ষণিক সমাধান না দিলেও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


   আরও সংবাদ