ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015
মিরপুরে

নির্যাতনের পর গৃহবধূ হত্যা, আত্মহত্যা বলে ধামাচাপার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:০৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


নির্যাতনের পর গৃহবধূ হত্যা, আত্মহত্যা বলে ধামাচাপার অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় গৃহবধূ সুইটি আক্তার (২৫)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের পর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা সুইটি আক্তারের সঙ্গে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার সুজন মিয়ার (৩৬) ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মিরপুরের ১১৯ পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

পরিবারের দাবি, সুইটি আক্তার ফ্রিল্যান্সিং ও টিউশনির মাধ্যমে নিয়মিত আয় করতেন। তবে স্বামী সুজন মিয়া তার উপার্জিত অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নিতেন এবং আরও টাকার জন্য প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এক পর্যায়ে সুইটি জানতে পারেন, তার উপার্জিত অর্থ অন্য এক নারীর পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে—এ সংক্রান্ত অডিও-ভিডিও প্রমাণও পরিবারের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল রাত ১১টার পর থেকে সুইটির ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। পরদিন (৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে একটি সাবলেট সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে তার মরদেহ রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

এদিকে, সুইটির বড় ভাই আরিফকে ফোন করে জানানো হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে আত্মীয়স্বজন দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং বিষয়টি শের-ই-বাংলা নগর ও মিরপুর মডেল থানাকে অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, শের-ই-বাংলা নগর থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভূমিকা ছিল ধীরগতির ও প্রশ্নবিদ্ধ।

পরিবারের আরও অভিযোগ, মিরপুর মডেল থানার এসআই কাঞ্চন নাহার ঘটনাস্থলে এসে অশোভন আচরণ করেন এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই দ্রুত সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এমনকি একটি হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ভিকটিমের স্বজন নুসরাত অভিযোগ করে বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” তিনি অভিযুক্ত সুজন মিয়া ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবার ও স্থানীয়দের একটাই দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।


   আরও সংবাদ