ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সহিংসতার মাঝেই প্রথম ধাপে ভোট ৯২%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


সহিংসতার মাঝেই প্রথম ধাপে ভোট ৯২%

বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে, এদিন ভোট পড়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ-যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম সর্বোচ্চ।

 

প্রথম দফায় ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে।

নন্দীগ্রাম, রেজিনগর, নওদা ও আসানসোল দক্ষিণসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

 

নির্বিঘ্ন ভোট নিশ্চিত করতে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পাশাপাশি প্রায় ৪৪ হাজার বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।

 

তবে কড়া নিরাপত্তার মাঝেও মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম, দক্ষিণ দিনাজপুর ও কোচবিহারে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিরোধী দলগুলো এসব ঘটনার জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি।

 

মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগরে এক রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং তার গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে।

এছাড়া বীরভূমে বুথ এজেন্টকে মারধর, আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর, মালদায় এজেন্ট আক্রান্তসহ বিভিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। কিছু কেন্দ্রে ইভিএম বিকল হওয়ায় ভোটগ্রহণে বিলম্ব হয়, যা ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

প্রবল গরমের মধ্যেই ভোট চলাকালে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও মালদায় ‘হিট স্ট্রোক’-এ অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি দাবি করেন, গত ৫০ বছরে এত কম সহিংসতার নির্বাচন হয়নি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে তার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার আগেই জয়ের দাবি করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির কারণে ভোটদানের হার বেড়েছে। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই উত্তাপ আগামী দফাগুলোতেও রাজনীতিকে আরও সরগরম করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


   আরও সংবাদ