ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আমিরাতের তেল বন্দরে হামলা

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


 আমিরাতের তেল বন্দরে হামলা

হরমুজ প্রণালীতে সোমবার একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ইরানের ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেল বন্দরে আগুন লাগে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তার নৌবাহিনী প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রুটে ইরানের প্রভাবের প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, তবে কখন তা ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কোনো জাহাজই প্রণালী পার হয়নি এবং ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যত জাহাজ চলাচলে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি।

 

সামাজিক মাধ্যমে ঘোষিত এই নতুন মার্কিন উদ্যোগটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ খুলে দেওয়ার প্রথম সরাসরি নৌ-প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান বলছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের সংঘাতের মধ্যে তেহরান মূলত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এর পাল্টা হিসেবে গত মাস থেকে ইরানের বন্দরগুলোতেও অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

সোমবার নতুন মার্কিন উদ্যোগের প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা গেছে এবং পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এখনো প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং দক্ষিণ কোরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এইচএমএম নামু’-তে বিস্ফোরণের ঘটনা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পানামা পতাকাবাহী জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আমিরাত জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরের একটি তেল স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে। হরমুজ প্রণালীর বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো উপসাগরে অবস্থান করে এই অভিযানে সহায়তা করছে এবং দুটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী পার হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মিথ্যা।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে তারা গুলি ছুড়েছে, ফলে সেটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। প্রথমদিকে ইরান দাবি করেছিল জাহাজটিতে আঘাত হেনেছে, তবে পরে তা সতর্কতামূলক গুলি বলে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রও আঘাতের দাবি অস্বীকার করেছে।

নতুন উত্তেজনার খবরে তেলের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

তবুও শিপিং খাত এখনো নিশ্চিত নয় যে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ হয়েছে। চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান ছাড়া স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাম্প তার ঘোষণায় নৌবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের জাহাজকে নিরাপদে এই সংকটপূর্ণ জলপথ পার হতে সহায়তা করবে।

জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালীর নিরাপত্তা তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অন্যথায় কোনো বিদেশি বাহিনী প্রবেশের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

সংঘাতের কারণে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক কয়েক মাস ধরে উপসাগরে আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা।

এদিকে জার্মান শিপিং কোম্পানি হাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল এখনো সম্ভব নয়।

সোমবার আমিরাত অভিযোগ করেছে, আবুধাবিভিত্তিক রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি খালি তেলবাহী জাহাজে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যখন সেটি প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের জবাব তারা পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে কোনো পক্ষই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

ইরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রথমে প্রণালী সংকট সমাধানের কথা বলা হয়েছে, আর পারমাণবিক ইস্যু পরে আলোচনায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক, যা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব বলে তাদের দাবি।

ইরান অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে।


   আরও সংবাদ