আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, পরে আপনাদের জানাব।
এররপর তিনি যোগ করেন, ‘তারা এখন আমাকে সঠিক ভাষাটা দেবে।’
কিছুক্ষণ পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করতে পারছি না এটি গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।
’
এর আগে এই সপ্তাহেই ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু করা যুদ্ধে ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, ‘এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে, তারা কূটনীতির পথ নেবে নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে। ইরান দুই পথের জন্যই প্রস্তুত।’
ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার মতো কোনো চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ শেষ করা হবে না। ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হামলা শুরুর সময় ট্রাম্প এটিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে (সামরিক পদক্ষেপ) হতে পারে… এটা অবশ্যই একটি সম্ভাবনা।’
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করলে জাহাজ কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে, এমন সতর্কতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান প্রণালীটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল আয় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, শুধু নগদ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিকল্প লেনদেন, অনানুষ্ঠানিক বিনিময় কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে প্রদত্ত অর্থের মাধ্যমেও ইরানকে অর্থ প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান