ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
জ্বালানি ঘাটতি কমাতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি দরদাতা বা বিডারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডের (ডব্লিউপিপিএফ) হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের শিল্পায়নের সম্প্রসারণের সঙ্গে জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও আবিষ্কার এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পিএসসির আওতায় আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪’-এ ৭টি প্রতিষ্ঠান বিড ডকুমেন্ট কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়নি।
এর কারণ অনুসন্ধানে পেট্রোবাংলার গঠিত কমিটি আইওসিগুলোর মতামত, মিডিয়া প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করে। সেগুলো হলো— গ্যাসের মূল্য, পাইপলাইন ট্যারিফ, ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের স্বল্পতা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৩’ পর্যালোচনা করে নতুন করে খসড়া ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়। এ জন্য পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি কাজ করে।
জানা গেছে, শ্রম আইন অনুযায়ী ডব্লিউপিপিএফের আওতায় কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আপত্তির কারণে জ্বালানি খাতে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ হার কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সংশোধনী এনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বিডারদের তথ্যসংক্রান্ত ঘাটতি দূর করতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার সংরক্ষিত সিসমিক ও ড্রিলিং ডাটা সমন্বয় করে সাশ্রয়ী মূল্যে ‘ডাটা প্যাকেজ’ আকারে বিনিয়োগকারীদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাল্টি-ক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভের তথ্যও নির্দিষ্ট মূল্যে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
এছাড়া গভীর ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে গ্যাসের মূল্য, পাইপলাইন ট্যারিফ এবং বিভিন্ন ফিসকাল সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জানা গেছে, খসড়া পিএসসির ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ ও সংশোধন সংযোজন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬’।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই পিএসসির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।