ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬ ১৮:০৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত লাশ

চট্টগ্রাম: নগরের পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে আবু কাউসার (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার আলামত পেয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। 

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাগরিকায় ফ্লাইওভারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত এক দেড়টার দিকে কাউসার হামিদ প্রকাশ আবু কাউসার একাই ফ্লাইওভারে ওঠেন এবং মাঝামাঝি একটি পিলারের কাছে গলায় ফাঁস দেন।

ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। কাউসারের বিরুদ্ধে দস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।

এর মধ্যে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

তিনি আরও বলেন,  নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তির বিষয়েও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ করা হলেও আইনগত কারণে তা করা হয়েছে । এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পাহাড়তলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফ্লাইওভারের বিপরীতমুখী লেইনের মাঝামাঝি অংশে রেলিংয়ের সঙ্গে মাফলার পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের লাশ দেখতে পায় পুলিশ। 

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিহতের মা পারভিন আক্তার থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহত আবু কাউসার রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি নগরের আকবরশাহ থানার পশ্চিম ফিরোজশাহ পোস্ট অফিস এলাকায় বসবাস করতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সাগরিকা এলাকার একটি ডিপোতে খণ্ডকালীন পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে মঙ্গলবার রাতে আবু কাউসারকে একা ফ্লাইওভারে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দেন বলে ফুটেজে দেখা গেছে।

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখানে দেখা যায়, ওই যুবক একাই ফ্লাইওভারে হেঁটে গেছেন। কিছুক্ষণ রেলিংয়ের পাশে অবস্থান করার পর আত্মহত্যা করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের প্রতিটি আলামত আমরা যাচাই করেছি। গলার দড়ির দাগ, দেহের অবস্থান, ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের উচ্চতা ও লাশ উদ্ধারের সময়কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষ, ধস্তাধস্তি বা হত্যার ইঙ্গিত দেয় এমন কোনো চিহ্নও নেই। সব মিলিয়ে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, নিহত ব্যক্তি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের এক নেতা এবং তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এ দাবি নাকচ করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। নাম, বয়স ও পরিচয়ের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।


   আরও সংবাদ