ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কোরআনের বর্ণনায় মানুষের হাসি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


কোরআনের বর্ণনায় মানুষের হাসি

হাসি-কান্নায় গড়া মানুষের জীবন। মানুষ যদি পৃথিবীতে আল্লাহর ভয়ে কান্না করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জীবনবিধান মেনে পথ চলে, তবে তার বিদায় হবে হাসতে হাসতে।

তখন জগদ্বাসী তার জন্য কান্না করবে।

 

পার্থিব জীবনে মুমিন কতটা হাসবে এ লেখায় সে নির্দেশনাই তুলে ধরা হলো।

 হাসি-কান্না আল্লাহর হাতে। মানবজীবনে হাসি ও কান্নার অংশ নির্ধারণ করেন মহান আল্লাহ।

 

তিনি দান করেন হাসি, দেন চোখের পানি। তাই মুমিন আল্লাহর কাছেই আল্লাহভীতির অশ্রু এবং সুখময় জীবনের হাসি কামনা করবে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৪৩)

 

মহান আল্লাহর হাসি
হাসি মহান আল্লাহর একটি বৈশিষ্ট্য। যদিও তাঁর হাসি তাঁর পবিত্র সত্তার মতোই চিরন্তন, তা কখনো সৃষ্টির হাসির মতো নয়। হাদিসে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতি ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এভাবে সে চাইতেই থাকবে। শেষে আল্লাহ হেসে দেবেন। আর আল্লাহ যখন হেসে দেবেন, তখন তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৭৩)

দুনিয়ায় মুমিনের হাসি
হাসি ও কান্না মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এর মাধ্যমে মানুষ আনন্দ ও বেদনার অভিব্যক্তি পেশ করে থাকে। কিন্তু পার্থিব জীবনে মুমিন হাসির ওপর কান্নাকে প্রাধান্য দেবে। কেননা হাসি খেল-তামাশা ও উদাসীনতার প্রতীক আর কান্না আল্লাহর ভয় ও পরকালীন জীবনে মগ্ন থাকার নিদর্শন। পবিত্র কোরআনের শিক্ষাও অনুরূপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।’(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮২)

পরকালে মুমিনের হাসি
পরকালে মুমিনের হাসি হবে অন্তহীন। মুমিন পার্থিব জীবনের আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের বিনিময়ে অন্তহীন সুখের জীবন লাভ করবে। ফলে বিচার দিবসেই সে হাসিমুখে উঠবে এবং হাসিমুখে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অনেক মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল হবে।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ৩৮-৩৯)

আল-কোরআনে হাসির প্রকার
পবিত্র কোরআনের ১০টি আয়াতে জিহিক বা হাসির বর্ণনা এসেছে। আয়াতগুলোতে মোট পাঁচ প্রকারের হাসির বিবরণ পাওয়া যায়। তা হলো—

১. বিস্ময়ের হাসি: কখনো কখনো মানুষ বিস্মিত হয়েও হাসি দেয়। যেমন—সুলাইমান (আ.) পিপীলিকার কথা শুনে বিস্মিত হয়ে হেসে ছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুলাইমান তার কথায় মৃদু হাসি দিল।’ (সুরা : নামল, আয়াত: ১৯)

২. তাচ্ছিল্যের হাসি: অবিশ্বাসীরা আল্লাহ, নবী-রাসুল, পরকাল ও মুমিনদের নিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। পরকালে তাদের এই হাসির বিনিময় প্রদান করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তাদের কাছে আমার নিদর্শনসহ আসামাত্র তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৪৭)

৩. মুনাফিকি হাসি: মুনাফিকরা মুসলমানের ছদ্মাবরণে থাকে। কিন্তু মুসলমানের কষ্ট ও ক্ষতি দেখে তারা মুখ লুকিয়ে হাসে। আল্লাহ এমন হাসির নিন্দা করে বলেন, ‘অতএব, তারা কিঞ্চিৎ হেসে নিক, তারা প্রচুর কাঁদবে তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮২)

৪. লক্ষ্য অর্জনের হাসি: মুমিন ইহকালে পরকালীন জীবনে ফসল বপন করে থাকে। পরকালে যখন মুমিন তার নেক কাজের সোনালি ফসল লাভ করবে তখন সে হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অনেক মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে, সহাস্য ও প্রফুল্ল।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ৩৮-৩৯)

৫. সুসংবাদ লাভের হাসি: মুমিন যখন কোনো নিয়ামত লাভ করে, তখন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য হাসে। যেমন—সন্তান লাভের সুসংবাদ পেয়ে ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী হেসে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর স্ত্রী দণ্ডায়মান এবং সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাঁকে ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম। সে বলল, কি আশ্চর্য! সন্তানের জননী হবো আমি, যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! এটা অবশ্যই এক অদ্ভুত ব্যাপার!’ (সুরা: হুদ, আয়াত: ৭১-৭২)

যে হাসি নিষিদ্ধ
ইসলাম মানুষকে স্বভাবজাত হাসি থেকে কখনো নিষেধ করে না। কিন্তু যে হাসি তাকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয় তা থেকে বিরত থাকতে বলে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এত ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে যে তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১১০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা হাসি-ঠাট্টা করছ! কান্না করছ না? তোমরা তো উদাসীন।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৬০-৬১)

হাসির সুন্নত পদ্ধতি
মুমিন মুচকি হাসবে। এটাই নবী-রাসুলদের সুন্নত। শায়খ উসাইমিন (রহ.) বলেন, হাসি তিন প্রকার : প্রাথমিক, মধ্যম ও চরম। প্রাথমিক হাসি হলো মুচকি হাসি, মধ্যম হলো মৃদু হাসি এবং চরম হলো অট্টহাসি। অট্টহাসি কোনো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত নয়। আবু ইসহাক (রহ.) বলেন, আল্লাহর নবীরা বেশির ভাগ সময় মুচকি হাসতেন। (তাফসিরুল বাসিত : ১৭/১৭৯)


   আরও সংবাদ