ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাসের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ মে, ২০২৬ ২২:০২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


বাসের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী

সকাল সাড়ে ৮টা। রাজধানীর বিমানবন্দর বাসস্টপে অফিসগামী মানুষের ভিড়।

বাসস্টপ বলতে রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ফাঁকা জায়গা। কয়েক মিনিট অপেক্ষার পর একটি বাস সামনে আসতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

বাস পুরোপুরি থামার আগেই দৌড়ে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। তাদের ভিড়ে ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নুসরাত জাহানও।

 

‘বাসে উঠতে গিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দেয়।

প্রতিবাদ করলে উল্টো ঝামেলা হয়’, বলছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই কর্মজীবী নারী।

 

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা, সরেজমিন পর্যবেক্ষণ এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে—এখনো কর্মজীবী নারীদের সবচেয়ে বড় ভরসা বাস হলেও তাদের যাত্রাপথ নিরাপত্তাহীনতা, যৌন হয়রানি, অব্যবস্থাপনা ও মানসিক চাপে ঠাসা।

‘ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াতে ভোগান্তি ও সমস্যা’ শীর্ষক একটি জরিপ পরিচালিত হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায়। প্রায় পাঁচ হাজার কর্মজীবী মানুষের ওপর পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ৯৪২ জন নারী। তাদের গড় বয়স ৩৪ বছর এবং গড় মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা।

জরিপে দেখা গেছে, এখনো প্রায় ২৫ শতাংশ নারী নিয়মিত বাস ব্যবহার করেন। মেট্রোরেল ব্যবহার করেন প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া লেগুনা, অফিসের শেয়ারড পরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করেন অনেকে।

“বাসে উঠতে গিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দেয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো ঝামেলা হয়।”
নুসরাত জাহান
বেসরকারি চাকরিজীবী

গবেষকদের মতে, মেট্রোরেল চালু হলেও নারীদের প্রধান বাহন এখনো বাস। কারণ এটি তুলনামূলক সস্তা এবং শহরের অধিকাংশ রুটে চলাচল করে। তবে বাসভিত্তিক যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন।

চলন্ত বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়
সরেজমিনে মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা, মিরপুর ও গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায়, অধিকাংশ বাস নির্ধারিত স্টপেজে থামে না। যাত্রীদের দৌড়ে গিয়ে বাস ধরতে হয়।

মিরপুরের একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত তানিয়া আক্তার বলেন, ‘অনেক সময় বাস থামে না। চলন্ত অবস্থায় উঠতে হয়। শাড়ি পরে থাকলে আরও বিপদ। পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে সব সময়।’

ওই জরিপে একই চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বাসে ওঠানামার সময় শারীরিক হয়রানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জরিপ উদ্ধৃত করে গবেষকরা জানান, নারীরা সবচেয়ে বেশি যৌন ও শারীরিক হয়রানির শিকার হন বাসে ওঠানামার সময়।

নারী যাত্রী দেখলে বাস থামাতে চান না বেশিরভাগ গণপরিবহনের চালক। উত্তরার বাসিন্দা কর্মজীবী রাবেয়া সুলতানা প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করেন বাসে। তবে প্রতিদিনের এই যাত্রা তার জন্য শুধু ভোগান্তিই নয়, অনেক সময় অপমানজনক অভিজ্ঞতারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘পিক আওয়ারে অনেক বাস নারী যাত্রী দেখলে থামতেই চায় না। কারণ তারা মনে করে নারী উঠলে সময় বেশি লাগবে। আবার নারী যাত্রীদের জন্য কিছু আসন খালি রাখতে হয়, সেটাও তারা এড়িয়ে যেতে চায়।’

তিনি জানান, অনেক সময় বাস ধীরগতিতে এসে সামনে পুরুষ যাত্রী দেখলে থামে, কিন্তু নারী যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকলে গতি বাড়িয়ে চলে যায়। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছানো নিয়েও তৈরি হয় উদ্বেগ।

“নারী আসনে পুরুষ যাত্রী বসে থাকেন, বললে অনেকে উঠতেও চান না। অনেক সময় হেলপারও সহযোগিতা করে না।”
খাদিজা ইসলাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী 

সরেজমিনে বিমানবন্দর, বসুন্ধরা, ফার্মগেট, মহাখালী, বাড্ডা ও মিরপুর এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ফার্মগেট এলাকায় কয়েকটি বাস পুরুষ যাত্রী তুললেও নারী যাত্রীদের হাতের ইশারা উপেক্ষা করে চলে যেতে দেখা যায়। অনেক নারীকে তখন হতাশ হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার বাস ধরতে দৌড়ে ঝুঁকি নিয়েও চলন্ত বাসে ওঠার চেষ্টা করেন।

মিরপুরের বাসিন্দা সুমি আক্তার নামে এক কর্মজীবী নারী বলেন, ‘অনেক সময় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাওয়া যায় না। বাস এলেও হেলপার দূর থেকেই বলে দেয়, মহিলা সিট নাই! অথচ পরে দেখা যায়, পুরুষ যাত্রীদের ঠিকই তোলা হচ্ছে।’

গবেষকদের মতে, এ ধরনের বৈষম্যকে অনেক পুরুষ যাত্রী স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখলেও নারীদের কাছে এটি প্রতিদিনের বড় দুর্ভোগ। কারণ কর্মজীবী পুরুষদের মতো কর্মজীবী নারীদেরও নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছাতে হয়, সন্তানকে যথা সময়ে স্কুলে পৌঁছে দিতে হয় কিংবা বিভিন্ন কাজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়। কিন্তু গণপরিবহনের অনিশ্চয়তা তাদের চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বাসচালক ও হেলপারদের একটি অংশ নারী যাত্রীকে ‘অতিরিক্ত ঝামেলা’ হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে শাড়ি পরা নারী, গর্ভবতী নারী বা শিশুসহ মায়েদের তুলতে অনেক চালক অনীহা দেখান। কারণ তাদের ওঠানামায় তুলনামূলক বেশি সময় লাগে বলে মনে করা হয়। ফলে নারী যাত্রীরা অনেক সময় একের পর এক বাস ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু পরিবহন সংকট নয়, বরং নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। নিরাপদ ও সমান অধিকারভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে বলেও মনে করছেন তারা।

বাসস্টপেও নেই নিরাপত্তা
রাজধানী ঢাকায় উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রায় ২০০টি বাসস্টপ থাকলেও অধিকাংশই অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ।

“কোলে বাচ্চা নিয়ে বাসে উঠতে গেলে কেউ জায়গা দেয় না। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।”
রাবেয়া বেগম
গৃহকর্মী

মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় সন্ধ্যার পর দেখা যায়, স্টপেজের বড় অংশ দখল করে রেখেছেন হকাররা। পর্যাপ্ত আলো নেই। নারী যাত্রীরা রাস্তার কিনারায় দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছেন।

এক নারী যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকলেও নিরাপদ লাগে না। ছিনতাইয়ের ভয় থাকে, আবার অনেকেই বিরক্ত করে।’

একাধিক নারী যাত্রী বাসস্টপে পাবলিক টয়লেট না থাকাকেও বড় সংকট বলে মনে করেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বা দূরপাল্লার যাত্রায় এ সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে।

সংরক্ষিত আসন শুধু কাগজে
প্রগতি সরণি করিডরে পরিচালিত বাস অ্যাসেসমেন্টে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসেই সংরক্ষিত নারী আসনে পুরুষ যাত্রী বসে আছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা ইসলাম বলেন, ‘নারী আসনে পুরুষ যাত্রী বসে থাকেন, বললে অনেকে উঠতেও চান না। অনেক সময় হেলপারও সহযোগিতা করে না।’

অনেক বাসে সংরক্ষিত নারী আসনের চিহ্ন থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর নয় বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ মায়েদের জন্য গণপরিবহনে যাতায়াত আরও কঠিন। গবেষকরা বলছেন, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক নারী ও শিশুসহ মায়েদের জন্য ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা প্রায় অপ্রবেশযোগ্য।

“যৌন হয়রানিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
নাসিমুন হক আরা মিনু
নারী সাংবাদিক 

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে বাসে ওঠার চেষ্টা করছিলেন গৃহকর্মী রাবেয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘কোলে বাচ্চা নিয়ে বাসে উঠতে গেলে কেউ জায়গা দেয় না। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।’

গবেষণায় বলা হয়েছে, উঁচু চেসিস, ভাঙা সিঁড়ি ও ধরার উপযুক্ত রেলিং না থাকায় নারীদের জন্য বাসে ওঠানামা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।

মেট্রোরেলে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ
ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার অ্যান্ড প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ধ্রুব আলম বলেন, গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর নারীদের যাতায়াতের পরিধি বেড়েছে।

তিনি জানান, বাসে যেখানে গড় যাত্রার দূরত্ব ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার, সেখানে মেট্রোরেলে তা বেড়ে ১১ থেকে ১৪ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এর ফলে কর্মজীবী নারীদের চাকরির সুযোগও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ পরিবহন না থাকলে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান খান বলেন, ‘গণপরিবহন শুধু যাতায়াতের বিষয় নয়, এটি নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন না থাকলে নারীরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন।’

তিনি বলেন, ‘বাসভিত্তিক গণপরিবহনকে নারীবান্ধব করতে হলে স্টপেজ ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত স্থানে থামার বাধ্যবাধকতা, অভিযোগ ব্যবস্থা এবং চালক-হেলপারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

নারী সাংবাদিক নাসিমুন হক আরা মিনু বলেন, ‘যৌন হয়রানিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন ড. আসিফ-উজ-জামান খান। তিনি বলেন, নারীরা শুধু বাসের ভেতরে নয়, বাসে ওঠানামা, বাসস্টপে যাওয়া কিংবা বাসা থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পুরো যাত্রাপথজুড়েই অনিরাপত্তা ও হয়রানির মুখোমুখি হন।

তিনি জানান, ‘দোলনচাঁপা’ ধরনের বিশেষ বাসসেবা পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট করিডরে বিশেষ সেবা চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. খান আরও বলেন, গণপরিবহনে সিসিটিভি, আলাদা ওঠানামার দরজা এবং যাত্রী আচরণবিধি বাস্তবায়ন জরুরি।

আয় বাড়লেই বাস ছাড়তে চান নারীরা
এদিকে, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীরা বাস থেকে অটোরিকশা, রাইড শেয়ার বা ব্যক্তিগত পরিবহনের দিকে ঝুঁকছেন।

“গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল নারীদের সমস্যা নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক ও নাগরিক সংকট।”
মো. সাইফুল আলম
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক 

গবেষকদের মতে, এটি শুধু স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে নয়; বরং নিরাপত্তাহীনতা, হয়রানি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তির চেষ্টাও এর বড় কারণ। তাদের পর্যবেক্ষণ, গণপরিবহন বিশেষ করে বাসসেবা নিরাপদ, আরামদায়ক ও নারীবান্ধব করা গেলে ব্যক্তিগত পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

মালিক সমিতির মতামত
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেন, গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল নারীদের সমস্যা নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক ও নাগরিক সংকট।

স্থায়ী সমাধান হলো, সবার জন্য নিরাপদ গণপরিবহন। নারীদের জন্য আলাদা বাস সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন সবার জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা। পরিবহন শ্রমিকদের আচরণ পরিবর্তন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
ডিটিসিএ-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নারীবান্ধব পরিবহন গড়ে তুলতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, কোথায় কত নারী যাত্রী চলাচল করেন, এ তথ্য না থাকলে পরিকল্পনা কার্যকর হবে না।

পুলিশ ও বিআরটিএ’র মতো সংস্থার অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবহন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গণপরিবহনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রচারণা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের ভোগান্তি এখন কেবল যাতায়াতের সমস্যা নয়, এটি একটি কাঠামোগত ও সামাজিক সংকট। বাসে ওঠার সংগ্রাম, ভেতরের অনিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলিয়ে নারীদের দৈনন্দিন চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমন্বিত পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, আচরণগত পরিবর্তন এবং কঠোর নীতিমালা ছাড়া এই পরিস্থিতির টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।


   আরও সংবাদ