ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মৌলভীবাজারের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দেবেন আশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশেষ করে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু ও একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন স্থানীয়রা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আলোচনায়ও উঠে এসেছে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয়গুলো।
স্থানীয়দের মতে, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা হওয়া সত্ত্বেও মৌলভীবাজার এখনো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। জেলার মানুষের সবচেয়ে বড় দাবি– শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিমানবন্দরটি চালু হলে শুধু মৌলভীবাজার নয়, পুরো সিলেট বিভাগের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি ও প্রবাসী অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের জন্য বিমান যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।
শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু সরাসরি বিমান যোগাযোগ না থাকায় অনেক পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিমানবন্দর চালু হলে পর্যটন খাতের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে মৌলভীবাজারের গুরুত্বও কম নয়। জেলার লাখ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন, বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশফেরত যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। একইসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জটিল রোগের চিকিৎসা কিংবা উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা নিতে রোগীদের সিলেট অথবা ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হয়। অনেক সময় রোগীর জীবন বিপন্ন হয়।
স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারই ঘটবে না, বরং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক ও গবেষক তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষাবিদদের মতে, মৌলভীবাজারে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার শিক্ষার্থীরা নিজ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন।
তাদের মতে, চা শিল্পের আধুনিকায়ন, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও এখন জরুরি। তবে এসব দাবির মধ্যে বিমানবন্দর ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় দুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তার বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মৌলভীবাজারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা মূলত এ দুটি খাতকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে ঘিরে উন্নয়ন-প্রত্যাশী মৌলভীবাজারবাসীর দৃষ্টি এখন তার বক্তব্য ও ঘোষণার দিকে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে কোনো ইতিবাচক বার্তা আসবে কি না, সেটিই এখন জেলার মানুষের প্রধান আলোচনার বিষয়। বিমানবন্দর চালু ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে– এমন আশাতেই অপেক্ষা করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় তিনি নিজ বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় সেখান থেকে আকাশপথে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২টায় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। জেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেখানে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। এরপর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক সভা শেষে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।