ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

২৪ বছর পর ঐতিহাসিক প্রতিশোধ ফ্রান্সের

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৯ বার


২৪ বছর পর ঐতিহাসিক প্রতিশোধ ফ্রান্সের

তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে শুভসূচনা করল ফ্রান্স। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০,৫৪৫ জন দর্শকের সামনে গ্রুপ ‘আই’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে চরম খাপছাড়া ফুটবল খেললেও, দ্বিতীয় অধ্যায়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স এবং কোচ দিদিয়ের দেশমের ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের ওপর ভর করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ‘লে ব্লুজ’রা।

 

নিজের ৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এই জোড়া গোলের সুবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৮ গোল নিয়ে তিনি এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা (ওলিভিয়ের জিরুদের ৫৭ গোল টপকে)। একই সাথে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৪-তে।

এর মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি পেলে (১২ গোল), লিওনেল মেসি (১৩ গোল) এবং স্বদেশী জুস্ত ফন্টেইনকে (১৩ গোল) টপকে গেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন তার ওপরে আছেন কেবল ব্রাজিলের রোনালদো (১৫ গোল) এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬ গোল)।

 

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই সেনেগালের কাছেই ১-০ গোলে হেরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গ্রুপ পর্বেই ভেস্তে গিয়েছিল। ১৪ বছর ধরে কোচের দায়িত্বে থাকা দিদিয়ে দেশম (যিনি এই বিশ্বকাপ শেষেই পদত্যাগ করবেন) খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হতে বারণ করেছিলেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালের খেলা দেখে সেই ভয় সত্যি বলেই মনে হচ্ছিল।

গত জানুয়ারিতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনালে ওয়াক-আউট (প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ত্যাগ) করার কারণে শিরোপা হারানো সেনেগাল প্রথমার্ধে ফ্রান্সের ওপর ছড়ি ঘোরায়। ২৫ মিনিটে সাদিও মানের নেতৃত্বাধীন দলটির ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন গোলকিপারকে একা পেয়েও শট পোস্টে মারেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ইসমাইলা সার আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতধারা করলে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সকে চেনা রূপে ফেরাতে দারুণ এক কৌশলগত পরিবর্তন আনেন দেশম। বর্তমান ব্যালন ডি'অর জয়ী ওসমানে ডেম্বেলেকে ডান উইংয়ে পাঠিয়ে মাইকেল অলিসকে মাঝমাঠে এমবাপ্পের ঠিক পেছনে খেলার সুযোগ করে দেন। এই এক পরিবর্তনই পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে অলিসের বাড়ানো একটি চোখধাঁধানো পাস ডি-বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে (১-০)। ৬০ মিনিটের মাথায় সাদিও মানের ধাক্কায় এমবাপ্পে বক্সে পড়ে গেলে ফ্রান্স পেনাল্টির আবেদন করেছিল, তবে রেফারি আলিরেজা ফাগানি ভিএআর দেখে তা নাকচ করে দেন। অবশ্য তাতে ফ্রান্সের জয়রথ থামেনি। ৮৫ মিনিটে রাবিওটের পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় ব্র্যাডলি বারকোলা চমৎকার গোল করে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

ম্যাচ যখন একদম শেষ পর্যায়ে, তখন ৯৫ মিনিটে সেনেগালের হয়ে এক সান্ত্বনাসূচক গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন ইব্রাহিম এমবায়ে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে (৯৬ মিনিটে) দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত রকেট শটে সেনেগালের জালে বল পাঠিয়ে ফ্রান্সের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই এমন জয়ে আসরের অন্যতম হট ফেবারিট ফ্রান্সের নক-আউট পর্বে (শেষ ৩২) যাওয়ার পথ অনেক সহজ হয়ে গেল। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ইরাকের, আর এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।


   আরও সংবাদ