ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পড়াশোনার চাপে ভেঙে পড়ছে না তো শিশু?

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


পড়াশোনার চাপে ভেঙে পড়ছে না তো শিশু?

স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি কোচিং, নাচ, গান, ছবি আঁকা, আবৃত্তিসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে অনেক শিশু। প্রতিযোগিতার এই সময়ে ভালো ফল করার চাপ অনেকের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ, স্মৃতিশক্তি এবং শেখার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

 

অনেক সময় শিশুরা বকাঝকা বা ভুল বোঝাবুঝির ভয়ে নিজের মানসিক কষ্ট প্রকাশ করতে পারে না।

ফলে উদ্বেগ ও অবসাদ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই অভিভাবকদের উচিত আচরণগত পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা।

 

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

বারবার মাথাব্যথা বা পেটে ব্যথার অভিযোগ

শিশু যদি প্রায়ই স্কুলে যাওয়ার আগে বা পড়তে বসার সময় মাথাব্যথা কিংবা পেটে ব্যথার কথা বলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, স্কুলভীতি বা সহপাঠীদের সঙ্গে সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

 

ঘুমের সমস্যা

শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু রাতে ঘুমাতে না পারা, বারবার দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠা বা দীর্ঘ সময় বিছানায় ছটফট করা মানসিক চাপের লক্ষণ হতে পারে।

অতিরিক্ত রাগ বা খিটখিটে আচরণ

সামান্য বিষয়েও রেগে যাওয়া, তর্ক করা, চিৎকার করা, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা কিংবা অবাধ্য আচরণ করা মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। উদ্বেগ বেড়ে গেলে শিশুর স্বাভাবিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা দেয়।

সবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া

যে শিশু আগে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে ভালোবাসত, সে যদি হঠাৎ একা থাকতে শুরু করে বা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মেলামেশা কমিয়ে দেয়, তাহলে তা উদ্বেগ বা অবসাদের ইঙ্গিত হতে পারে। ছোটখাটো ব্যর্থতায় অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা ভেঙে পড়াও এ ধরনের সমস্যার লক্ষণ।

পছন্দের কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

ছবি আঁকা, গান, খেলাধুলা বা অন্য কোনো প্রিয় কাজে আগের মতো আগ্রহ না থাকা, সব সময় উদাসীন থাকা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা মানসিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

কী করবেন অভিভাবক?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর আচরণে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে বকাঝকা না করে ধৈর্যের সঙ্গে কথা বলুন। তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক সহায়তা পেলে অধিকাংশ শিশুই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।


   আরও সংবাদ