ঢাকা, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অবিস্মরণীয় টেস্ট জয়ের পর ম্যাচসেরা হাসান

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৬ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


অবিস্মরণীয় টেস্ট জয়ের পর ম্যাচসেরা হাসান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই চেনা আঙিনায় হারিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক টেস্ট জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টাইগাররা।

এই অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক জয়ের মূল নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ, যিনি ম্যাচে একাই শিকার করেছেন ৯ উইকেট। ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে এই ডানহাতি পেসারের হাতেই।

 

প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে চরম ব্যাকফুটে থেকে এই টেস্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে মূল মঞ্চে নেমেই প্রথম দিনে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী ৬ উইকেটের স্পেলে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় সফরকারীরা।

 

 

এরপর তানজিদ হাসানের অভিষেক টেস্ট শতক ও ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪২৬ রান। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে চারদিনেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টেস্টের কোনো একটি সেশন বা আকস্মিক কোনো স্পেলে নয়, বরং প্রতিটি সেশনে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জয় নিশ্চিত করে দল।

 

ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের পর দলের মানসিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন হাসান মাহমুদ।

 

 

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় হাসান বলেন, ‘ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে আমরা প্রতিটা সেকেন্ড নিজেদের শতভাগ দিয়েছি এবং ফলাফলের কথা চিন্তা না করে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপের বিষয়ে কোচদের সঙ্গে আমাদের সুনির্দিষ্ট দলীয় পরিকল্পনা ছিল, ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল এবং মাঠে আমরা ঠিক সেটাই প্রয়োগ করেছি।’

উইকেটের আচরণ ও বোলিংয়ের কৌশল নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘বোলাররা যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছিল, সবাই লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করে গেছে। যার ফলও আমরা পেয়েছি।’

দেশের কোটি সমর্থকদের আনন্দের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই আমার জন্য নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে। আমার দেশের মানুষ এখন এই জয় উদযাপন করবে।’

চারজন ৩০০-এর বেশি উইকেটধারী অভিজ্ঞ বোলারে সাজানো অস্ট্রেলিয়ান বোলিং আক্রমণকে সামলে এই জয় পাওয়াটা যেমন বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় এক অর্জন, তেমনি প্যাট কামিন্সদের জন্য এক বড় ধাক্কা। ডারউইনে রচিত হলো বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায়। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ, যার ফলে সিরিজ হারের কোনো শঙ্কা আর রইল না।


   আরও সংবাদ