ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জিয়া-খালেদার পথেই এগোতে চাই

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জিয়া-খালেদার পথেই এগোতে চাই

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথেই বর্তমান সরকার এগিয়ে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথ সুগম হবে।

সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। আমি প্রত্যাশা করি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক এবং তারা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাক।

 

রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টিকে সেভাবেই দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক ও সেখানকার জনগোষ্ঠী।

তাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

 

আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা ইস্যুকে তুলে ধরেছিল, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেনি বা করতে পারেনি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমেরিকাকে আমাদের এটা (রোহিঙ্গা ইস্যু) বোঝাতে হবে, চীনকে বোঝাতে হবে, ভারতকে বোঝাতে হবে। আমরা মনে করি, অবশ্যই তাদের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয় আছে। তবে সবার আগে যাদের বোঝাতে হবে, তারা হলো বাংলাদেশের জনগণ।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব মতভেদ ভুলে দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে। যখন ভূখণ্ডের কোনো বিষয় নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, তখন ধরে নিতে হবে, সেই আন্তর্জাতিক মোকাবিলা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। দেশের মানুষের ভালো ও কল্যাণের জন্য।

সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকেরই দেশের প্রতি কর্তব্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়েও সংবিধানে নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট হলেও বাংলাদেশ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পরও তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে। এটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয় নয়, এটি মানবাধিকারের বিষয়। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন। কীভাবে রোহিঙ্গা সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়, কমিটি সে বিষয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেটিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান খুন জখম ও অপরাধের প্রবণতাও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করেই সরকার এগোচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বলতে চায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীও নয়, তবে তারা মানুষ এবং তাদের মানবাধিকার রয়েছে। সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা ওই ভূখণ্ডের (মিয়ানমার) অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ও জায়গা থেকেই আমরা বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করার পক্ষে।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ