ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:২২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার
২০৩০-৩১ সালের মধ্যে স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রপ্তানি করে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ সংগঠনটির সভাপতি এনামুল হক খান লিখিত বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এনি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এফসিএমএসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকেরা।
বাজুসের সভাপতি বলেন, দেশের জুয়েলারি শিল্পের মূল বাধাগুলোর একটি হলো নীতিমালার অস্পষ্টতা।
বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির পথ সহজ করা গেলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব।
বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে।
পাশাপাশি বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দিলে আরও ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এতে দেশে থাকা স্বর্ণের মোট মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।
বাজুস জানায়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও ৪ লাখ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।
জুয়েলারি শিল্পকে আধুনিক ও রপ্তানিমুখী করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ এবং আরও ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখার প্রত্যাশা করছে বাজুস।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেখানে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাজুসের বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করা প্রয়োজন। এ ধরনের নীতিগত সংস্কার করা হলে ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করছে বাজুস।
সংগঠনটির মতে, দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এবং আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা সহজ করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো গেলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে রূপান্তর করা যাবে।
অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জুয়েলারি খাতে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি খাতটির উন্নয়নে নীতিগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।