স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩ বার
ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ নিয়ে চুক্তির কয়েকটি শর্ত পূরণ না করায় আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। একই সঙ্গে কয়েকটি খেলার মাঠ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব মাঠ কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ, যা আবাহনী মাঠ নামে পরিচিত, এবং ধানমন্ডি মাঠ সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।
ধানমন্ডির আবাহনী মাঠটি আগে আবাহনী ক্লাবের নামে বরাদ্দ ছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, গত ১১ মে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
চুক্তির কয়েকটি শর্ত পূরণ না করা এবং অনুমোদন ছাড়া মাঠে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়াকে চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত ছিল।
কিন্তু আবাহনী ক্লাবের পক্ষ থেকে অনুমোদন ছাড়াই কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলার মাঠ দখল ও সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, খেলার মাঠের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি যেখানে রয়েছে, সেখানে নতুন মাঠ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান জমি দান করলেও সেখানে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’ কোনো মাঠ দখলের ঘটনা নজরে এলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, মাঠে ইতিমধ্যে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে না ফেলে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য। আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাব বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবগুলোর বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে মাঠ ও বিদ্যমান অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠ কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে খালি জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে ফুটসাল বা আধুনিক খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তিরাও যাতে এসব মাঠ ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
আবাহনী মাঠের বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, মাঠটি এমনভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে খেলোয়াড় তৈরির উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি এর মান ও রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করা হবে।
আবাহনী মাঠে অন্য ক্লাবগুলোর অনুশীলনের সুযোগ থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবাহনী তাদের মাঠে খেলবে। একই সঙ্গে অন্যান্য খেলাধুলার জন্যও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
তিনি বলেন, মাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। আগে মাঠ উন্মুক্ত থাকলেও পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। এবার এমন পরিবেশ তৈরি করতে চান, যেখান থেকে ভবিষ্যতে খেলোয়াড় তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া এবারের বাজেটে খেলাধুলার জন্য আলাদাভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান আমিনুল হক। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, আর্চারি, শুটিংসহ সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যমান স্থাপনা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের বদলে সেগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার ক্রীড়া অবকাঠামো শুধু একটি-দুটি মাঠের ওপর নির্ভর করবে না। বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সামগ্রিক ক্রীড়া পরিবেশ উন্নত করা হবে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।